পবিত্র রমজান মাসজুড়ে মাধ্যমিক স্তরের বিদ্যালয় বন্ধ থাকবে কি না—এই প্রশ্নে আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার কথা ছিল। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের করা আপিলের ওপর শুনানি শেষে আদালতের নির্দেশনার ভিত্তিতেই বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার কথা ছিল। ফলে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষক মহলে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা বিরাজ করছিল। সেই অনিশ্চয়তার অবসান অবশেষে ঘটল।



রমজান মাসে মাধ্যমিক বিদ্যালয় খোলা রেখে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ছুটির তালিকা প্রকাশ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে পুরো রমজান মাস স্কুল বন্ধ রাখার দাবিতে সরকারকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়। সাড়া না পাওয়ায় বিষয়টি হাইকোর্টে গড়ায় এবং এক আইনজীবী রিট আবেদন করেন।
রিটের শুনানি শেষে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট-এর হাইকোর্ট বিভাগ ১৮ ফেব্রুয়ারি (রমজান শুরুর সম্ভাব্য তারিখ) থেকে নিম্ন-মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। এতে ধারণা করা হচ্ছিল, ওই তারিখ থেকেই ছুটি কার্যকর হবে।
কিন্তু শিক্ষা মন্ত্রণালয় নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় থেকে আপিল করে। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত হাইকোর্টের আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ দেন। আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব এ আদেশ প্রদান করেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক, তাকে সহযোগিতা করেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মারিয়া তানজিমা।
এর আগে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ পুরো রমজান মাসে সরকারি-বেসরকারি নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. ইলিয়াস আলী মন্ডল ও অ্যাডভোকেট তানজিনা ববি লিজা।
রিটের আগে গত ৫ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. ইলিয়াছ আলী মন্ডল সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠান। সেখানে বলা হয়, বাংলাদেশের অধিকাংশ নাগরিক মুসলমান এবং স্বাধীনতার পর থেকে রমজান মাসে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার প্রথা রয়েছে। সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদ ও ১৫২(১) অনুচ্ছেদের ব্যাখ্যা তুলে ধরে রমজানে স্কুল খোলা রাখার সিদ্ধান্তকে অসাংবিধানিক দাবি করা হয়।
নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা সারাদিন স্কুলে যাতায়াত ও ক্লাসের চাপে রোজা রাখতে কষ্টের সম্মুখীন হতে পারে। এতে ধর্মীয় চর্চায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি রমজানে স্কুল খোলা থাকলে নগর এলাকায় যানজট বৃদ্ধির বিষয়টিও তুলে ধরা হয়।
দেশের নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় পুরো রমজান বন্ধ রাখার যে নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট, তা স্থগিত হয়ে গেছে। এর ফলে স্কুলে ঈদুল ফিতরের ছুটি শুরু হবে আগামী ৮ মার্চ থেকেই।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) একাধিক সূত্র দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে মাউশির এক কর্মকর্তা বলেন, ‘হাইকোর্টের আগের নির্দেশনা স্থগিত হয়ে যাওয়ায় স্কুলের ক্লাস কার্যক্রম যথাযথভাবে চলবে। ৭ মার্চ পর্যন্ত ক্লাস হবে। ৮ মার্চ থেকে স্কুলে ঈদের ছুটি শুরু হবে।’
এর আগে গত রবিবার এক রিট মামলার শুনানি শেষে পুরো রোজার মাস স্কুল বন্ধ রাখার আদেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, গণভোট ও শিবরাত্রী ব্রত উপলক্ষে প্রাথমিক, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজগুলো টানা পাঁচ দিন বন্ধ ছিল। সোমবার থেকে প্রতিষ্ঠানগুলোতে ক্লাস শুরু হয়েছে।
তবে নির্বাচনের ছুটির মধ্য দিয়ে মাদ্রাসাগুলোর শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ঈদের ছুটি শুরু করেছেন। মাদ্রাসার ছুটির তালিকা ও বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী, আগামী ২৮ মার্চ পর্যন্ত ছুটি চলবে।
এদিকে কলেজের ছুটির তালিকা ও বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী, বুধবার থেকে কলেজগুলোয় ঈদের ছুটি শুরু হচ্ছে। ক্লাস শুরু হবে ২৯ মার্চ থেকে।
Leave a Reply