ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফলে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত ২৯৭টি আসনের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করে গেজেট করা হয়েছে। এসব আসনের মধ্যে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট জয় পেয়েছে ২১২টি আসনে। দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৭৭টি আসন। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন ৮টি আসনে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে এবার নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। স্পিকার না থাকায় শপথবাক্য পাঠ করাবেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি তিনি শপথবাক্য পাঠ করাতে পারেন বলে জানা গেছে। এরপর ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ গ্রহণ সম্পন্ন হতে পারে। জাতীয় সংসদ সচিবালয় সূত্রে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
সরকার গঠনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী, সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের সংসদ নেতাই হবেন নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী। সে হিসেবে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন।
অন্যদিকে, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পাওয়া দল হিসেবে জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায় থাকবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আগামী দিনে সংসদে তাদের রাজনৈতিক কৌশল ও ভূমিকা কী হবে—তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে কৌতূহল ও আলোচনা চলছে।
দীর্ঘ পথপরিক্রমার পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের মাধ্যমে দেশ নতুন সরকার পেতে যাচ্ছে। এরই মধ্যে রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ ও হিসাব–নিকাশ শুরু হয়েছে।
এর আগে গত ৫ ফেব্রুয়ারি এই সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। তিনি ব্যাখ্যা করেন, পূর্ববর্তী সংসদের কোনো স্পিকার না থাকায় শপথ গ্রহণ করানোর ক্ষেত্রে আইনি বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তি—প্রধান উপদেষ্টার পরামর্শক্রমে—এই দায়িত্ব পালন করতে পারেন। পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, তিন দিনের মধ্যে শপথ সম্পন্ন না হলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারও শপথ গ্রহণ করাতে পারবেন—এমন বিধান আইনে বিদ্যমান।
Leave a Reply