বেসরকারি স্কুল ও কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত পৌনে চার লাখের বেশি শিক্ষক-কর্মচারীর জানুয়ারি মাসের বেতনের সরকারি আদেশ (জিও) এখনও জারি হয়নি। গত মঙ্গলবার এই জিও জারির কথা থাকলেও আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তা জারি করা সম্ভব হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) একটি সূত্র জানায়, গত সপ্তাহের বৃহস্পতিবার শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনের প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। তবে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস হওয়ায় সেদিন বেতন-ভাতার প্রস্তাব অনুমোদন করা যায়নি। পরে সব ধরনের অনুমোদন ও আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম সম্পন্ন করে গত মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) জিও জারির পরিকল্পনা থাকলেও সেদিনও তা বাস্তবায়ন হয়নি। আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্তও জিও জারি হয়নি।
সূত্রের তথ্যমতে, আগামী রবিবার অথবা সোমবার জানুয়ারি মাসের বেতনের জিও জারি হতে পারে। রবিবার জিও জারি হলে শিক্ষক-কর্মচারীরা সোমবার বেতন-ভাতা পাবেন। আর যদি সোমবার জিও জারি হয়, তাহলে মঙ্গলবার তাদের ব্যাংক হিসাবে জানুয়ারি মাসের বেতন-ভাতা জমা হবে। তবে মঙ্গলবারে যদি বেতন দেওয়া শুরু করা হয় তবে তা শিক্ষক কর্মচারীরা পাবে বিকাল নাগাদ। আরও সেই কারণে অধিকাংশ শিক্ষক কর্মচারীগণ তাদের বেতন উত্তোলন করতে পারবে না নির্বাচনের পূর্বে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশির অর্থ ও ক্রয় শাখার পরিচালক প্রফেসর মোহাম্মদ মনির হোসেন পাটওয়ারী বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত জানুয়ারি মাসের বেতনের জিও জারি হয়নি। কী কারণে জিও জারি হয়নি, সে বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ই ভালো বলতে পারবে বলে জানান তিনি। তবে জিও জারির পরের দিনই শিক্ষক-কর্মচারীরা তাদের বেতন-ভাতা পাবেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপসচিব (বাজেট) লিউজা-উল-জান্নাহকে ফোন করা হলে তিনি মিটিংয়ে আছেন জানিয়ে কলটি কেটে দেন।
জানা গেছে, প্রতি মাসে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের মাধ্যমে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনের প্রস্তাব অনলাইনে দাখিল করা হয়। বিল দাখিলের পর তা যাচাই-বাছাই করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে বেতন-ভাতা ছাড়ের ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদনের পর শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা সরাসরি ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হয়।
উল্লেখ্য, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নিয়মিত ও সময়মতো পরিশোধ নিশ্চিত করতে সরকার ডিজিটাল বিল দাখিল ও অনুমোদন ব্যবস্থা চালু করেছে। এর ফলে বেতন প্রক্রিয়াকরণ আগের তুলনায় আরও স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক হয়েছে।
Leave a Reply