পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা। সারা দেশে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আগামীকাল বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দেন তারা।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের পক্ষ থেকে এ ঘোষণা দেয়া হয়। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘোষণা দেন সংগঠনের সদস্য সচিব দেলাওয়ার হোসেন আজিজী।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের শীর্ষ নেতারা গতকাল মঙ্গলবার রাতের সভায় বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছেন। তারা বৃহস্পতিবার এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের ব্যানারে সব এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এর আগে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের বক্তব্য প্রত্যাহার ও বৈষম্যমুক্ত নবম পে স্কেলের গেজেট প্রকাশের দাবিতে কঠোর আন্দোলনের ডাক দেয় বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আজ বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ও আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত অফিসে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর আগামী ৩০ জানুয়ারি সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বড় ধরনের প্রতিবাদ সমাবেশ করবেন কর্মচারীরা।
দাবি আদায় না হলে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে গেজেট প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত দেশব্যাপী টানা ধারাবাহিক কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার সংগঠনের সদস্যসচিব মো. মাহমুদুল হাসান ও মুখ্য সমন্বয়ক মো. ওয়ারেছ আলী স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। বিবৃতিতে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খানের একটি মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানানো হয়। কর্মচারীদের অভিযোগ, উপদেষ্টা সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জানিয়েছেন যে বর্তমান সরকার পে স্কেল বাস্তবায়ন করবে না এবং কেবল আন্দোলন স্তিমিত রাখতেই পে কমিশন গঠন করা হয়েছিল। উপদেষ্টার এমন বক্তব্যকে নিম্ন বেতনভুক্ত কর্মচারীদের সাথে ‘তামাশা’ ও ‘রসিকা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন কর্মচারী নেতারা।
আরও বলা হয়েছে, বিগত ১১ বছর ফ্যাসিবাদী সরকার কর্মচারীদের ন্যায্য পে স্কেল থেকে বঞ্চিত রেখেছে। বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে কর্মচারীরা চরম দুঃখ-দুর্দশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। নবম পে কমিশনের চূড়ান্ত রিপোর্ট সরকারের হাতে থাকা এবং বাজেটে অর্থের সংস্থান থাকা সত্ত্বেও গেজেট প্রকাশে গড়িমসি করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে উপদেষ্টার এই উস্কানিমূলক বক্তব্য তুষের আগুনে ঘি ঢালার মতো কাজ করেছে।
কর্মচারী নেতারা অবিলম্বে জ্বালানি উপদেষ্টার এই ‘হঠকারী’ ও ‘অগ্রহণযোগ্য’ বক্তব্য প্রত্যাহার করে আগামী ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার শর্তে নবম পে স্কেলের গেজেট প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, প্রধান উপদেষ্টা দেশের শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং অবহেলিত কর্মচারীদের মুখে হাসি ফোটাতে দ্রুত হস্তক্ষেপ করবেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বেন না বলেও বিবৃতিতে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
Leave a Reply