নবম জাতীয় পে–স্কেলের সুপারিশ চূড়ান্ত করার কাজে শেষ ধাপের দিকে যাচ্ছে জাতীয় বেতন কমিশন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগামী মধ্য জানুয়ারির মধ্যেই কমিশন তাদের পূর্ণাঙ্গ সুপারিশ জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতার মধ্যে রয়েছে। তবে এখনও গ্রেড সংখ্যা, সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সদস্যদের মধ্যে চূড়ান্ত ঐক্যমত্য হয়নি। এ কারণে আরও অন্তত দুটি পূর্ণ কমিশন সভা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব সভায় অমীমাংসিত ইস্যুগুলোতে সমঝোতা হলে রিপোর্ট জমা দেওয়ার সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ ঠিক করা হবে বলে কমিশন সদস্যরা জানিয়েছেন।
বর্তমান ২০-গ্রেডের কাঠামো থাকবে নাকি তা কমিয়ে আনা হবে—এই প্রশ্নটিই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। কমিশনের একটি অংশ মনে করছে, বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বজায় রেখে কেবল যৌক্তিক হারে বেতন-ভাতা বাড়ানোই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত হবে। অন্যদিকে, সদস্যদের আরেকটি অংশ গ্রেড সংখ্যা কমানোর পক্ষে জোরালো যুক্তি তুলে ধরছেন। তাদের মতে, বেশি গ্রেড থাকায় পদমর্যাদা ও বেতনের ব্যবধান অস্বাভাবিকভাবে বড় হয়ে যায়, যা কাঠামোগত বৈষম্য তৈরি করে। এই অবস্থায় কেউ ২০ গ্রেড থেকে কমিয়ে ১৬ গ্রেডে আনার প্রস্তাব দিয়েছেন, আবার আরেকদল চাইছেন গ্রেড সংখ্যা আরও কমিয়ে ১৪ গ্রেডে নামিয়ে আনা হোক।
কমিশনের সদস্যদের ভাষ্যে, গ্রেড নির্ধারণই এখন সবচেয়ে স্পর্শকাতর ও জটিল বিষয়। এই প্রস্তাব কেবল কারিগরি নয়—এটি প্রশাসনিক স্তরবিন্যাস, পদোন্নতি, সুবিধা বণ্টন এবং ভবিষ্যৎ মানবসম্পদ কাঠামোর ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে। তাই সবাই একমত না হওয়া পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হবে না। ৩১ ডিসেম্বরের পূর্ণ কমিশন সভায় এই ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে, বিভিন্ন সংস্থা, সংগঠন এবং পেশাজীবী প্ল্যাটফর্ম থেকে প্রাপ্ত মতামতগুলোও কমিশন গুরুত্ব সহকারে পর্যালোচনা করছে। কর্মচারীদের আন্দোলন, মহাসমাবেশ কিংবা কর্মসূচি—এসব চাপ সত্ত্বেও কমিশন ‘বাস্তবসম্মত ও টেকসই’ একটি কাঠামো তৈরির ওপরই মনোযোগ দিচ্ছে। প্রস্তাবগুলো বিশ্লেষণ, তুলনা ও নথিবদ্ধ করার কাজ এখনও চলমান থাকায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুতে আরও কিছুটা সময় লাগবে বলে সূত্র জানায়।
উল্লেখ্য, সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নের লক্ষ্যে গত জুলাইয়ে নবম পে–কমিশন গঠন করা হয়, যার ছয় মাসের মধ্যে সুপারিশ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। অন্যদিকে কর্মচারী সংগঠনগুলো ডিসেম্বরের মধ্যেই গেজেট প্রকাশের দাবি জানিয়ে আসছে। এই প্রেক্ষাপটে কমিশনের সময়সীমা, বাস্তবতা ও প্রত্যাশার চাপ—সব মিলিয়ে নতুন পে–স্কেল চূড়ান্ত করাকে এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
Leave a Reply