সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারীদের জন্য প্রণয়নাধীন নবম জাতীয় পে–স্কেল নিয়ে পূর্ণ কমিশনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সভা আহ্বান করা হয়েছে। আগামী বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে পে–কমিশনের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বৈঠককে কমিশনের কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা ও নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের অন্যতম ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কমিশনের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা সোমবার জানান, এই বৈঠকে পে–স্কেলের খসড়া সুপারিশে অন্তর্ভুক্ত কয়েকটি মূল বিষয়ের উপর চূড়ান্ত মতামত গ্রহণ করা হতে পারে। তবে সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত না হলে আরও একটি বা একাধিক সভা আয়োজনের প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে।
সভায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু থাকবে নতুন বেতন কাঠামোর কাঠামোগত রূপ—বিশেষ করে বেতন গ্রেডের সংখ্যা কতটি হবে, সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতন কত নির্ধারণ করা হবে, এবং গ্রেডভিত্তিক বেতন–ব্যবধান কতটা যৌক্তিক রাখা যায়—এসব বিষয়কে ঘিরেই আলোচনার গুরুত্ব বেশি থাকবে। কারণ এই দুটি উপাদান ঠিকভাবে নির্ধারিত হলে বাকি আর্থিক সুবিধা, ইনক্রিমেন্ট, স্কেল–সমন্বয়সহ অন্যান্য অংশ সহজে চূড়ান্ত করা সম্ভব হবে। কমিশনের মতে, এমন একটি কাঠামো তৈরি করতে তারা চেষ্টা করছে যা একদিকে অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় টেকসই হবে, অন্যদিকে কর্মচারীদের জীবনযাত্রা ও বাজারমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকবে।
এদিকে, নবম পে–স্কেল প্রণয়ন প্রক্রিয়াকে ঘিরে ইতোমধ্যে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, পেশাজীবী সংগঠন ও কর্মচারী কাঠামোগত ফোরামের পক্ষ থেকে শতাধিক মতামত, দাবি ও প্রস্তাব পে–কমিশনের কাছে জমা পড়েছে। কমিশনের সদস্যরা এসব প্রস্তাব চুলচেরা বিশ্লেষণ করে সেগুলো নথিভুক্ত করছেন। কোন প্রস্তাব বাস্তবভিত্তিক, কোনটির আর্থিক প্রভাব বেশি, এবং কোন সুপারিশ দীর্ঘমেয়াদে রাজস্ব কাঠামোকে চাপের মধ্যে ফেলতে পারে—এসব বিষয় মাথায় রেখে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। এ কারণে এখনো পূর্ণাঙ্গ চূড়ান্ত প্রতিবেদন লেখা শুরু করা যায়নি বলে কমিশনের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে।
সূত্রটি আরও জানায়, সম্প্রতি বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠন থেকে মহাসমাবেশ, কর্মসূচি বা আন্দোলনের ঘোষণার পরও কমিশন তাদের কাজে কোনো প্রকার চাপ অনুভব করছে না। বরং তারা বলছেন, তাড়াহুড়া করে প্রতিবেদন জমা দিলে সেটি টেকসই নাও হতে পারে—তাই বাস্তবসম্মত একটি সুপারিশ তৈরি করাই তাদের মূল লক্ষ্য। প্রয়োজন হলে তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ সম্পন্ন করতে অতিরিক্ত বৈঠক ও অভ্যন্তরীণ আলোচনা চালিয়ে যাবেন।
প্রসঙ্গত, সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নের লক্ষ্যে চলতি বছরের জুলাই মাসে অন্তর্বর্তী সরকার পে–কমিশন গঠন করে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, কমিশনকে ছয় মাসের মধ্যে তাদের সুপারিশ জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে। তবে অন্যদিকে, বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠন ডিসেম্বরের ১৫ তারিখের মধ্যেই গেজেট প্রকাশের দাবি জানাচ্ছে। ফলে কমিশনের সুপারিশ জমা, সরকারের অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ, এবং চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ—এই পুরো প্রক্রিয়া সময়ের সঙ্গে এক ধরনের সমন্বয়–চাপের মধ্যে রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নতুন পে–স্কেল কার্যকর হলে শুধু বেতন বাড়বে না, বরং পদ–কাঠামো, গ্রেড–সামঞ্জস্য, টাইম–স্কেল, সিলেকশন গ্রেড ও ইনক্রিমেন্ট নীতিতেও পরিবর্তন আসতে পারে। ফলে এর প্রভাব শুধু সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না—জাতীয় বাজেট ও অর্থনীতির ওপরও এর বড় প্রভাব পড়বে।
Leave a Reply