সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালনার নির্দেশনা দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। এসব কার্যক্রম একাডেমিক শিক্ষার পরিপূরক হিসেবে শিক্ষার্থীদের মানসিক, শারীরিক ও সামাজিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানকে আগামী ২৭ নভেম্বরের মধ্যে সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যক্রমের একটি বার্ষিক ক্যালেন্ডার প্রণয়ন করতে হবে।
সোমবার মাউশির পাঠানো এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়। চিঠিটি অধিদপ্তরের সব পরিচালক, উপপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, একাডেমিক কার্যক্রমের পাশাপাশি সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হলে তাদের সার্বিক বিকাশ সম্ভব হবে। সেই লক্ষ্যে মাউশির আওতাধীন সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্ধারিত বিভিন্ন সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় উল্লেখিত সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যক্রমের মধ্যে ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় থাকবে ফুটবল, ভলিবল, দাবা, ক্রিকেট ও দৌড়। সহ-পাঠ্য কার্যক্রম হিসেবে থাকবে বাংলা ও ইংরেজি বক্তৃতা, উপস্থিত বক্তৃতা, বাংলা ও ইংরেজি বিতর্ক, কুইজ প্রতিযোগিতা এবং দেয়ালিকা তৈরি। সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আওতায় থাকবে কোরআন তেলাওয়াত, হামদ ও নাত, নজরুল সঙ্গীত, রবীন্দ্র সঙ্গীত, লোকগীতি, আবৃত্তি, একক অভিনয়, নৃত্য এবং গ্রাফিতি অঙ্কন।
চিঠিতে আরও জানানো হয়, জানুয়ারি মাস থেকে শুরু হয়ে এসব সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যক্রম সারা বছর চলমান থাকবে। স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে চারটি হাউজভিত্তিক কাঠামোর মাধ্যমে নির্ধারিত ক্লাস রুটিনের সঙ্গে সমন্বয় করে এসব কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে হবে।
সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানকে নির্দেশিত সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যক্রম বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে বয়েজ স্কাউট, রোভার স্কাউট, গার্ল গাইডস, বিজ্ঞান ক্লাব, বিতর্ক ক্লাব এবং স্বাস্থ্য ও শারীরিক শিক্ষা ক্লাবসহ বিভিন্ন ক্লাব কার্যক্রমকে সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানকে একাডেমিক কার্যক্রমের সঙ্গে সমন্বয় করে আগামী ২৭ নভেম্বরের মধ্যে সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যক্রমের একটি ক্যালেন্ডার প্রস্তুত করতে হবে। এসব কার্যক্রমের তদারকি করবে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের শারীরিক শিক্ষা বিভাগ। উল্লিখিত নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
Leave a Reply