বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত শিক্ষকরা এখন থেকে শূন্য পদ থাকা সাপেক্ষে প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের সুযোগ পাবেন। এই বিষয়ে সরকার প্রয়োজনে আলাদা পরিপত্র জারি করতে পারবে। ৭ ডিসেম্বর প্রকাশিত সংশোধিত এমপিও নীতিমালা-২০২৫–এ এই নির্দেশনা যুক্ত হয়েছে।
নীতিমালার ১২.২ ধারাতে বলা হয়েছে, এনটিআরসিএর সুপারিশপ্রাপ্তসহ সকল এমপিওভুক্ত শিক্ষক, প্রদর্শক ও প্রভাষক শূন্য পদ থাকলে একই পদ ও একই বেতনে অন্য প্রতিষ্ঠানে বদলি হতে পারবেন। এ ব্যাপারে নীতিমালা প্রণয়ন ও প্রয়োজনীয় আদেশ জারি করার ক্ষমতা মন্ত্রণালয়ের হাতে থাকবে।
১২.১ ধারাতে সহকারী প্রধান শিক্ষক, প্রধান শিক্ষক, অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষদের ক্ষেত্রে বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে। তারা অন্য প্রতিষ্ঠানে একই বা উচ্চতর পদে আবেদন করলে বিভাগীয় প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হবেন। তবে আবেদন অবশ্যই নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে জমা দিতে হবে। নতুন প্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত হলে যোগদানের আগে না-দাবিপত্র ও ছাড়পত্র নিতে হবে।
এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্যটিতে যোগদানের সময়সীমা ২ বছর অতিক্রম করলে তা চাকরির বিরতি (Break of Service) হিসেবে গণ্য হবে। দুই বছরের বেশি হলে পূর্বের ইনডেক্স ও তার ভিত্তিতে অর্জিত অভিজ্ঞতা আর গণ্য হবে না। কোনো শিক্ষক/কর্মচারীর ইনডেক্স নিয়ম অনুযায়ী কর্তন হলে তিনি প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপনায় কোনো ভূমিকা রাখতে পারবেন না এবং বাধ্যতামূলক দায়িত্ব পালন করলে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হবে।
সংশোধিত নীতিমালার ১৮.১ ধারায় বলা হয়েছে, মন্ত্রণালয় বিশেষ কিছু অনিয়মের কারণে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক–কর্মচারীদের সরকারি অংশের বেতন-ভাতা সাময়িক স্থগিত, আংশিক কর্তন বা সম্পূর্ণ বাতিল করতে পারবে।
উপরের যেকোনো ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান প্রধানসহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষক–কর্মচারীর সরকারি অংশের বেতন-ভাতা বন্ধ করা হবে। প্রয়োজন হলে পরিচালনা কমিটির সভাপতির পদও শূন্য ঘোষণা করা হবে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রতিষ্ঠান যদি এনটিআরসিএ–তে শিক্ষক বা প্রদর্শকের চাহিদা পাঠায়, তবে সেই পদ এমপিওভুক্ত হতে হবে এবং সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষককে নিয়োগ দিতে হবে। অতিরিক্ত বা অবৈধ চাহিদা দিলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের সম্পূর্ণ বেতন প্রতিষ্ঠানকে বহন করতে হবে। এ ধরনের অনিয়ম করলে প্রতিষ্ঠান প্রধানের বেতন-ভাতা স্থগিত বা বাতিল করা হবে।
জাল শিক্ষাগত সনদ/রেকর্ড ব্যবহার করে এমপিওভুক্তির চেষ্টা করলে বা প্যাটার্ন বহির্ভূত পদে আবেদন করলে প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারী উভয়ের বেতন-ভাতা স্থগিত বা বাতিল করা হবে। কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিয়োগে অনিয়ম, সরকারি অংশের বেতন উত্তোলনে জালিয়াতি, বা ১৮.১ ধারায় উল্লেখিত যে কোনো অপরাধ করলে মাউশি বা মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট শিক্ষক/কর্মচারীর এমপিও কোড বা বেতন সাময়িক স্থগিত করতে পারবে। পরবর্তীতে মাউশি বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন পাঠাবে।
যদি কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি মনে করে সিদ্ধান্তটি অন্যায্য, তবে তারা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আপিল করতে পারবেন।
Leave a Reply