বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির সংশোধিত নীতিমালা জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন এই নীতিমালার আলোকে সফটওয়্যার আপডেটের কাজ শুরু হয়েছে এবং খুব শিগগিরই বদলির জন্য মাঠ পর্যায় থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে ঠিক কবে থেকে তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানায়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বিষয়টি নিয়ে বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) অধ্যাপক খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেলের সঙ্গে কথা বলা হলে তিনি জানান, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী সপ্তাহের শেষ দিক থেকেই মাঠ পর্যায়ে শিক্ষকদের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করা হতে পারে। তিনি বলেন, সংশোধিত নীতিমালার আলোকে সফটওয়্যার আপডেটের কাজ চলছে এবং তা সম্পন্ন হলেই বদলি কার্যক্রমের প্রস্তুতি দৃশ্যমান হবে।
গতকাল বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা সংশোধিত বদলি নীতিমালায় শিক্ষকদের বদলির ক্ষেত্রে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত ও বিধান যুক্ত করা হয়েছে। নীতিমালায় বলা হয়েছে, কোনো শিক্ষক বদলি হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের পর সেখানে ন্যূনতম দুই বছর দায়িত্ব পালন না করলে পুনরায় বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন না। অর্থাৎ বদলির পরপরই আবার নতুন বদলির সুযোগ থাকছে না।
নীতিমালায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠানভিত্তিক শূন্যপদের তালিকা বা চাহিদা সরকারের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী অনলাইনে প্রকাশ করবে। প্রকাশিত শূন্যপদের বিপরীতে যোগ্য শিক্ষকদের কাছ থেকে অনলাইনে আবেদন আহ্বান করা হবে।
এতে বলা হয়েছে, সব স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠান প্রধান, সহকারী প্রধান শিক্ষক কিংবা একই বিষয়ের শিক্ষক পদ শূন্য থাকা সাপেক্ষে প্রতি বছর সরকারের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন গ্রহণ, বদলির আদেশ জারি এবং নতুন কর্মস্থলে যোগদানের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।
নতুন নীতিমালায় বদলির আবেদনের ক্ষেত্রেও কিছু নির্দিষ্ট শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। আবেদনকারী শিক্ষক তার চাকরির আবেদনে যে জেলাকে নিজ জেলা হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন, প্রথমে সেই জেলাতেই বদলির আবেদন করতে পারবেন। তবে নিজ জেলায় শূন্যপদ না থাকলে তিনি নিজ বিভাগের অন্য যেকোনো জেলার শূন্যপদের বিপরীতে বদলির আবেদন করার সুযোগ পাবেন।
এছাড়া শিক্ষকরা স্বামী বা স্ত্রীর নিজ জেলা কিংবা স্বামী/স্ত্রীর কর্মস্থল জেলাতেও বদলির আবেদন করতে পারবেন। তবে এক্ষেত্রে স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থল অবশ্যই সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান অথবা এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হতে হবে।
নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, কোনো শিক্ষক প্রথম যোগদানের পর চাকরিতে ন্যূনতম দুই বছর পূর্ণ না করলে বদলির আবেদন করার যোগ্য বিবেচিত হবেন না। অর্থাৎ নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও দুই বছর চাকরি সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
এর আগে সংশোধিত এই বদলি নীতিমালার অনুমোদন দেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নীতিমালাটি জারি করার পাশাপাশি তা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে আপলোডের কাজও চলমান রয়েছে। খুব দ্রুতই এটি সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
Leave a Reply