বেসরকারি স্কুল ও কলেজে কর্মরত পৌনে চার লাখেরও বেশি শিক্ষক-কর্মচারীর এপ্রিল মাসের বেতন-ভাতার ফাইল এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এখনো এ সংক্রান্ত অনুমোদন জারি না হওয়ায় চলতি মাসে তাদের বেতন পেতে কিছুটা বিলম্ব হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, বেতন ছাড়ের প্রক্রিয়া বর্তমানে মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ে রয়েছে এবং দ্রুত নিষ্পত্তির চেষ্টা চলছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) বিষয়টি নিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, এপ্রিল মাসের বেতনের ফাইল বর্তমানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের দপ্তরে প্রক্রিয়াধীন অবস্থায় রয়েছে। মাউশির মহাপরিচালকের (ডিজি) চলতি দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বলেন, শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনের ফাইল দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। একই তথ্য নিশ্চিত করেছেন ইএমআইএসের প্রোগ্রামার মোঃ জহির উদ্দিনও। তিনি জানান, প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে ফাইল অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যেই এটি ছাড় করা হতে পারে। তবে শিক্ষক কর্মচারীদের বেতনের এই জটিলতার বিষয়ে সঠিক কারণ কেউ বলছে না। কোন সমস্যা ছাড়া এত দেরি হওয়ার কথা নয়।
তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের সাথে এ বিষয় নিয়ে কথা বললে তারা ক্ষোভের মাধ্যমে জানিয়েছে যে, তাদের এ বেতন প্রাপ্তিতে বিলম্বকরণ শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাউশির ইচ্ছাকৃত। এটির পেছনে গভীর চক্রান্ত দানা বাঁধতে চলেছে। শিক্ষক কর্মচারীদের কারও কারও মতে এই ভাবে ইএফটির মাধ্যমে বেতন প্রদান প্রক্রিয়া ইচ্ছাকৃত বিলম্ব ঘটিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাউশির কিছু কর্মকর্তা চাচ্ছে পূর্বের অ্যানালগ সিস্টেমে ফিরে যেতে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রদান একটি নির্ধারিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়। প্রতি মাসে প্রতিষ্ঠান প্রধানরা অনলাইনের মাধ্যমে বেতনের বিল দাখিল করেন। এরপর সেই বিল বিভিন্ন ধাপে যাচাই-বাছাই করা হয়। শিক্ষক-কর্মচারীদের তথ্য, উপস্থিতি, এমপিও অবস্থা এবং আর্থিক হিসাব যাচাই শেষে তা অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে বেতন-ভাতার অর্থ পাঠানো হয় এবং সেখান থেকেই শিক্ষক-কর্মচারীরা তাদের বেতন উত্তোলন করেন।
তবে চলতি মাসে অনুমোদন প্রক্রিয়ায় কিছুটা ধীরগতি দেখা দেওয়ায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বেতন পাওয়ার বিষয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। যদিও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এটি সাময়িক বিলম্ব এবং দ্রুত সময়ের মধ্যেই বেতন ছাড়ের কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।
উল্লেখ্য, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রদান ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও দ্রুততর করতে সরকার ইতোমধ্যে ডিজিটাল বিল দাখিল ও অনলাইন অনুমোদন ব্যবস্থা চালু করেছে। এই পদ্ধতিতে প্রতিষ্ঠান প্রধানরা অনলাইনে বিল দাখিল করতে পারছেন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যাচাই-বাছাই ও অনুমোদনের কাজ সম্পন্ন করছে। সরকারের দাবি, নতুন এই ডিজিটাল ব্যবস্থার ফলে বেতন প্রক্রিয়াকরণে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং অনিয়মের সুযোগও কমে এসেছে।
Leave a Reply