১ম থেকে ১২তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের বিষয়ে সরকার ইতিবাচক অবস্থান গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে, এই নিবন্ধনধারীদের মধ্যে যারা এখনো পর্যন্ত নিয়োগের জন্য সুপারিশ পাননি, তাদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)-কে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে এই চিঠির ভাষাগত দিক নিয়ে নতুন করে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।
এনটিআরসিএ সূত্রে জানা যায়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রেরিত চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ১ম থেকে ১২তম নিবন্ধনধারীদের বিষয়ে ‘বিধি মোতাবেক’ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। এর ফলে এনটিআরসিএ কোনোভাবেই বিদ্যমান বিধির বাইরে গিয়ে আলাদা কোনো সিদ্ধান্ত বা ব্যতিক্রমী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে না। বিধি অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে গেলে এই ব্যাচগুলোর জন্য বিশেষ বা পৃথক কোনো গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সুযোগও থাকছে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনটিআরসিএর এক কর্মকর্তা বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বিধি অনুসরণ করার বিষয়টি বাধ্যতামূলকভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত বিধিমালায় সনদের মেয়াদ সর্বোচ্চ তিন বছর এবং প্রার্থীদের বয়সসীমা সর্বোচ্চ ৩৫ বছর নির্ধারণ করা রয়েছে। এই বিধান অনুসরণ করলে ১ম থেকে ১২তম নিবন্ধনধারীদের নিয়োগ দেওয়া বাস্তবিক অর্থেই সম্ভব নয়।
তিনি আরও জানান, কেবল বিধিগত সীমাবদ্ধতাই নয়, এই নিবন্ধনধারীদের নিয়োগের ক্ষেত্রে আদালতে চলমান মোট ১৯টি মামলার নিষ্পত্তিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এসব মামলা এখনো বিচারাধীন রয়েছে। ফলে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনোভাবেই নিয়োগের সুপারিশ প্রদান করা আইনগতভাবে সম্ভব নয়।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ১ম থেকে ১২তম ব্যাচের প্রার্থীরা নিয়োগের দাবিতে রিট পিটিশন নং-১৩২৪/২০১৭-সহ মোট ১৬৬টি রিট মামলা দায়ের করেন। এসব রিটের প্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ ৭ দফা নির্দেশনা (Directions and Guidelines) প্রদান করে। সেই নির্দেশনার আলোকে এমপিও নীতিমালার অতিরিক্ত সুচিত্র (মাধ্যমিক-২) অনুযায়ী বয়সসীমা ৩৫ বছর নির্ধারণ করা হয় এবং এনটিআরসিএ একটি জাতীয় মেধাতালিকা প্রস্তুত করে, যা তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।
পরবর্তীতে হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে সিভিল আপিল (নং-৭১/২০২৩) দায়ের করা হয়। আপিল বিভাগ ওই Directions and Guidelines-সহ হাইকোর্টের রায় বাতিল করে দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট বিভাগে রিভিউ পিটিশন দায়ের করা হয়, যা এখনো বিচারাধীন রয়েছে। একই সঙ্গে ফলাফল প্রকাশের তারিখ থেকে সনদের মেয়াদ তিন বছর বহাল রাখার বিষয়টিও বহাল রাখা হয়।
এদিকে, সিভিল আপিলের মডিফিকেশনের আবেদনও বর্তমানে শুনানির পর্যায়ে রয়েছে। ৩৫ বছরের ঊর্ধ্বে থাকা প্রার্থীরা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির আওতায় আবেদন করার সুযোগ চেয়ে একাধিক রিট মামলা দায়ের করেছেন। এসব মামলার প্রেক্ষিতে সিভিল পিটিশন ফর লিভ টু আপিল দায়ের করা হয়েছে।
বর্তমানে রিট পিটিশনারদের পক্ষ থেকে দায়ের করা সিভিল পিটিশন ফর লিভ টু আপিল সংক্রান্ত মোট ১৯টি মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি অত্যন্ত জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি, রিট মামলার নির্দেশনার ভিত্তিতে এমপিও নীতিমালায় নির্ধারিত বয়সসীমা ৩৫ বছর এবং সনদের মেয়াদ ৩ বছর সংক্রান্ত বিষয়ে আইন ও বিচার বিভাগ এবং সলিসিটর অনুবিভাগের মতামত গ্রহণ করাও প্রয়োজন।
এনটিআরসিএর মতে, এসব মতামতের ভিত্তিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় যদি এমপিও নীতিমালায় প্রয়োজনীয় সংশোধন এনে বয়সসীমা ও সনদের মেয়াদ বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করে, তবেই বিষয়টির একটি কার্যকর ও আইনসম্মত সমাধান সম্ভব হবে।
Leave a Reply