বেসরকারি স্কুল ও কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির জন্য সংশোধিত নীতিমালা জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে নীতিমালা জারি হলেও তা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার আপডেট না হওয়া পর্যন্ত মাঠপর্যায়ে কোনো কার্যক্রম শুরু হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নতুন নীতিমালার আলোকে সফটওয়্যার হালনাগাদ করবে টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড। এই আপডেট সম্পন্ন হওয়ার পরই শিক্ষকদের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হবে।
বুধবার (৬ এপ্রিল) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)-এর একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, নীতিমালা জারি হলেও তাৎক্ষণিকভাবে শিক্ষকদের কাছ থেকে বদলির আবেদন বা তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে না। সফটওয়্যারে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা প্রয়োজন, যা সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব নয়। এ উদ্দেশ্যে টেলিটককে চিঠি পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সূত্র অনুযায়ী, বুধবারই চিঠি পাঠানোর চেষ্টা করা হবে, না হলে পরদিন বৃহস্পতিবার তা পাঠানো হবে। সফটওয়্যার আপডেটের কাজ বৃহস্পতিবার অথবা আগামী রবিবার থেকে শুরু হতে পারে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাউশির এক কর্মকর্তা জানান, সফটওয়্যার আপডেটের জন্য ইতোমধ্যে চিঠি প্রস্তুত করা হয়েছে এবং দ্রুতই তা টেলিটকের কাছে পাঠানো হবে। তিনি আরও বলেন, সফটওয়্যার আপডেট সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আঞ্চলিক কার্যালয়গুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাঠানো হবে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই মাঠপর্যায়ে শিক্ষকদের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করা হবে।
সংশোধিত বদলি নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে, কোনো শিক্ষক বদলি হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের পর সেখানে ন্যূনতম দুই বছর চাকরি সম্পন্ন না করলে পরবর্তী বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন না। এছাড়া প্রতিষ্ঠানভিত্তিক শূন্যপদের তালিকা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে প্রকাশ করবে মাউশি।
এই শূন্যপদের বিপরীতে শিক্ষকদের কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করা হবে। প্রতিষ্ঠান প্রধান, সহকারী প্রধান অথবা একই বিষয়ের শিক্ষক পদে শূন্যতা থাকলে প্রতি বছর সরকারের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আবেদন গ্রহণ, বদলির আদেশ জারি এবং নতুন কর্মস্থলে যোগদানের পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, আবেদনকারী শিক্ষক তার চাকরির আবেদনপত্রে উল্লেখিত নিজ জেলায় বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে নিজ জেলায় শূন্যপদ না থাকলে তিনি নিজ বিভাগের অন্য যেকোনো জেলার শূন্যপদের বিপরীতে আবেদন করতে পারবেন।
এছাড়া শিক্ষকরা তাদের স্বামী বা স্ত্রীর নিজ জেলা কিংবা স্বামী/স্ত্রীর কর্মস্থল জেলায় (যদি তা সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হয়) বদলির আবেদন করার সুযোগ পাবেন। তবে প্রথম নিয়োগের পর কমপক্ষে দুই বছর পূর্ণ না হলে কেউ বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন না।
এর আগে এই সংশোধিত নীতিমালাটি অনুমোদন দেন আবদুল খালেক, যিনি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নীতিমালা জারির পাশাপাশি এটি ওয়েবসাইটে আপলোডের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে এবং খুব শিগগিরই তা সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
Leave a Reply