এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে থাকা বদলি কার্যক্রমে আবারও গতি ফিরে এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বদলির প্রক্রিয়াসংক্রান্ত ফাইলটি ইতোমধ্যে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রস্তুত করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের টেবিলে উপস্থাপন করা হয়েছে। সেখান থেকে এটি শিক্ষা মন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানোর প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দিনের যেকোনো সময় এই গুরুত্বপূর্ণ ফাইলটিতে স্বাক্ষর হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহল আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে সংশোধিত বদলি নীতিমালাও খুব শিগগির, এমনকি আজই, প্রকাশিত হতে পারে বলে জোরালো সম্ভাবনার কথা জানা গেছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র আজ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এর আগে গত ২৫ এপ্রিল এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী এবং প্রতিষ্ঠান প্রধানদের জন্য একটি সমন্বিত বদলি সফটওয়্যার প্রণয়নের লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সভায় তিনি স্পষ্টভাবে জানান, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য একটি কার্যকর বদলি নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে এবং একই সঙ্গে একটি আধুনিক সফটওয়্যার তৈরি করা হচ্ছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিশেষ করে যারা বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)-এর মাধ্যমে নিয়োগ সুপারিশ পেয়েছেন, তারা নিজ নিজ জেলায় বদলি হয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।
উল্লেখ্য, বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, দ্রুত এবং সুশৃঙ্খল করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বেশ কিছুদিন ধরেই উদ্যোগ গ্রহণ করে আসছে। এই উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় শুধুমাত্র এনটিআরসিএ’র সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সীমাবদ্ধ না রেখে, সকল এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর জন্য একটি একীভূত বা সর্বজনীন বদলি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য একটি কেন্দ্রীয় সফটওয়্যার তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে টেলিটক লিমিটেডকে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সফটওয়্যারটি চালু হলে বদলি প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত এবং জবাবদিহিমূলক হবে।
এছাড়া জানা গেছে, অতীতে এনটিআরসিএ’র মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের জন্য সরাসরি বদলির কোনো সুযোগ ছিল না। তারা শুধুমাত্র প্রকাশিত গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আবেদন করে প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের সুযোগ পেতেন। প্রথম থেকে তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তি পর্যন্ত যেসব শিক্ষক ইনডেক্সধারী ছিলেন, তারা এই সুযোগ ভোগ করতে পারলেও চতুর্থ গণবিজ্ঞপ্তির পর থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সেই সুযোগ বন্ধ করে দেয়। ফলে নতুনভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত অনেক শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে নিজ জেলার বাইরে কর্মরত থাকলেও বদলির সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিলেন। নতুন নীতিমালা ও সফটওয়্যার চালু হলে এই সমস্যার সমাধান হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
Leave a Reply