বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বদলি কার্যক্রম চালুর বিষয়ে মৌখিক সম্মতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর ফলে এতদিন ধরে বদলি চালুর ক্ষেত্রে যে প্রশাসনিক জটিলতা ও অনিশ্চয়তা ছিল, তা অনেকটাই দূর হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো মনে করছে।
মঙ্গলবার (৫ মে) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। মন্ত্রণালয়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, শিক্ষক-কর্মচারীদের বদলি চালুর বিষয়টি মৌখিকভাবে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হলে তিনি এতে সম্মতি দেন। এখন মূলত দুটি কাজ বাকি রয়েছে—একটি হলো সংশোধিত বদলি নীতিমালা চূড়ান্তভাবে জারি করা, অন্যটি হলো প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার প্রস্তুত করা। এই দুইটি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই আনুষ্ঠানিকভাবে বদলি কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে।
অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে যে শিক্ষকদের বদলি নীতিমালার সংশোধিত ফাইল পুনরায় অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করা হয়েছে। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এই তথ্যকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে। মঙ্গলবার (৫ মে) বিকেল ৪টা ১০ মিনিট পর্যন্ত সংশোধিত নীতিমালার ফাইল পুনরায় অনুমোদনের জন্য তোলা হয়নি বলে মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট তিনজন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন।
এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের আরেক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বদলি নীতিমালার সংশোধিত ফাইল একবার অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু শিক্ষা সচিব সেটি অনুমোদন না দিয়ে ফেরত পাঠান। এরপর আর ফাইলটি পুনরায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়নি। তবে নীতিমালার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন রয়েছে এবং কর্তৃপক্ষ চাইলে খুব দ্রুতই সেটি আবার অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা সম্ভব।
জানা গেছে, অতীতে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা নতুন করে প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের জন্য এনটিআরসিএর গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আবেদন করতে পারতেন। প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তির আওতায় ইনডেক্সধারী শিক্ষকরা এই সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু চতুর্থ গণবিজ্ঞপ্তি থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এই সুযোগ বন্ধ করে দেয়, ফলে অনেক শিক্ষক তাদের পছন্দের প্রতিষ্ঠানে বদলির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন।
পরবর্তীতে শিক্ষকদের ধারাবাহিক আন্দোলন ও দাবির মুখে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বদলি কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার প্রস্তুত না হওয়া এবং সংশোধিত নীতিমালা প্রকাশে বিলম্বের কারণে এ কার্যক্রম এখনো বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি। এতে করে শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে বদলি কার্যক্রম কার্যকর করার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।
Leave a Reply