বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত প্রায় পৌনে চার লাখেরও বেশি শিক্ষক-কর্মচারীর এপ্রিল মাসের বেতন-ভাতার প্রস্তাব ইতোমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুর পর্যন্ত এই প্রস্তাবে এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানাচ্ছে, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী সপ্তাহের শেষ দিকে শিক্ষক-কর্মচারীরা এপ্রিল মাসের বেতন-ভাতা হাতে পেতে পারেন।
বৃহস্পতিবার মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়ার পর বেতনের প্রস্তাবটি আইবাস (iBAS++) সিস্টেমে আপলোড করা হবে। এরপর অর্থ ছাড় হলে তা বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে অর্থ স্থানান্তর করা হলে শেষ পর্যন্ত সেই টাকা শিক্ষক-কর্মচারীদের নিজ নিজ ব্যাংক হিসাব নম্বরে জমা হবে।
মাউশির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, পুরো প্রক্রিয়াটি দ্রুত সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, আগামী মঙ্গলবারের মধ্যেই সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সে অনুযায়ী আশা করা হচ্ছে, আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যেই শিক্ষক-কর্মচারীরা এপ্রিল মাসের বেতন-ভাতা পেয়ে যাবেন। তবে কোনো কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন না হলে, সর্বোচ্চ ১০ বা ১১ তারিখের মধ্যে বেতন তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে।
সূত্র আরও জানায়, প্রতি মাসেই নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনের প্রস্তাব পাঠান। অনলাইনে বিল দাখিলের পর তা যাচাই-বাছাই করা হয় এবং এরপর অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে বেতনের অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পরই বেতন-ভাতার অর্থ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে পাঠানো হয়।
মাউশির ইএমআইএসসেলের তথ্য অনুযায়ী, বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত ৩ লাখ ৮৭ হাজারের বেশি শিক্ষক-কর্মচারীর এপ্রিল মাসের বেতনের প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে আগামী মাসে তারা বেতন-ভাতা পাবেন।
উল্লেখ্য, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নিয়মিত ও সময়মতো প্রদানের লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে ডিজিটাল বিল দাখিল ও অনুমোদন প্রক্রিয়া চালু করেছে। এর ফলে পুরো ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বেড়েছে এবং বেতন প্রক্রিয়াকরণ এখন আগের তুলনায় আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে সম্পন্ন হচ্ছে।
Leave a Reply