শিক্ষার্থীদের সেশনজটমুক্ত রাখতে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা ডিসেম্বরে নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পরপরই ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে অযথা বিলম্ব না ঘটে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ‘সফটওয়্যারের মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (স্কুল ও কলেজ) কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের বদলি নীতিমালা-২০২৬’ সংক্রান্ত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এইচএসসির দুই বছরের শিক্ষাক্রম নির্ধারিত দুই বছরের মধ্যেই শেষ করার জন্য সরকার কাজ করছে। এর ফলে কোনো ধরনের সেশনজট তৈরি হবে না। তিনি জানান, সবকিছু সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট সময়সূচির মধ্যে শিক্ষা কার্যক্রম সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ডিসেম্বর মাসকে পরীক্ষার চূড়ান্ত সময়সীমা হিসেবে ধরা হচ্ছে। এর মধ্যেই পাঠ্যসূচি শেষ করে পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর দ্রুত ফল প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই ভর্তি পরীক্ষার কার্যক্রম শুরু করা হবে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের জীবনে এক বা দুই বছর অযথা নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমে যাবে এবং তারা দ্রুত পরবর্তী ধাপে অগ্রসর হতে পারবে।
শিক্ষামন্ত্রী উল্লেখ করেন, ফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কোচিং সেন্টারের ওপর নির্ভরশীলতা কমে আসবে। শিক্ষার্থীরা সরাসরি একটি স্তর থেকে আরেকটি স্তরে যেতে পারবে, যা তাদের জন্য সময় ও মানসিক চাপ—উভয়ই কমাবে।
তিনি আরও জানান, এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে। উদ্দেশ্য হলো পরীক্ষা, ফল প্রকাশ এবং ভর্তি—এই পুরো প্রক্রিয়াকে একটি ধারাবাহিক কাঠামোর মধ্যে আনা, যাতে কোথাও কোনো অপ্রয়োজনীয় বিরতি বা গ্যাপ তৈরি না হয়।
Leave a Reply