এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সমন্বিত বদলি কার্যক্রম পরিচালনায় তৈরি করা সফটওয়্যারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামীকাল শনিবার। এ উপলক্ষে ২৫ এপ্রিল সকাল ১০টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে একটি বিশেষ সভার আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শিক্ষামন্ত্রী ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সভায় সভাপতিত্ব করবেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। জানা যায়, এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি নীতিমালা-২০২৬ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে তৈরি করা এই সফটওয়্যারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হবে। সভার স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে বাংলাদেশ সচিবালয়ের ভবন নম্বর-৬ এর কক্ষ নম্বর ১৮১৫। সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা ও অংশগ্রহণকারীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উপস্থিত থাকার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এ সফটওয়্যারের মাধ্যমে বেসরকারি স্কুল ও কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি প্রক্রিয়াকে একটি সমন্বিত ও ডিজিটাল কাঠামোর আওতায় আনা হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে, যেখানে শুধু এনটিআরসিএ’র সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরাই নন, বরং সব এমপিওভুক্ত শিক্ষককে একই প্ল্যাটফর্মে এনে বদলির সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সফটওয়্যারটি তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে টেলিটক লিমিটেডকে। পাশাপাশি, সংশোধিত বদলি নীতিমালাও শিগগির প্রকাশ করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এর আগে এনটিআরসিএ’র মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের বদলির কোনো স্থায়ী বা নির্দিষ্ট ব্যবস্থা ছিল না। তারা মূলত গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আবেদন করে প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের সুযোগ পেতেন। প্রথম থেকে তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তি পর্যন্ত ইনডেক্সধারী শিক্ষকরা এ সুবিধা পেলেও চতুর্থ গণবিজ্ঞপ্তি থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ সুযোগ বন্ধ করে দেয়, ফলে শিক্ষকরা বদলি প্রক্রিয়া থেকে বঞ্চিত হন।
পরবর্তীতে এ নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে অসন্তোষ ও আন্দোলন শুরু হলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় পুনরায় বদলি কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করে। এ লক্ষ্যে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হলেও বাস্তবায়ন পর্যায়ে একাধিক জটিলতা দেখা দেয়। বিশেষ করে, কিছু শিক্ষকের রিট আবেদন, সফটওয়্যার প্রস্তুতিতে বিলম্ব, এবং নীতিমালা সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা—এসব কারণে এখনো পর্যন্ত কার্যকরভাবে বদলি কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি। তবে নতুন সফটওয়্যার উদ্বোধনের মাধ্যমে এ দীর্ঘ প্রতীক্ষিত প্রক্রিয়া দ্রুতই বাস্তবায়নের পথে এগোবে বলে আশা করা হচ্ছে।
Leave a Reply