বেসরকারি স্কুল ও কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য প্রণীত সংশোধিত বদলি নীতিমালা আগামী সপ্তাহেই জারি করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এ নীতিমালা চূড়ান্তভাবে কার্যকর করার আগে বদলি সংক্রান্ত নতুন সফটওয়্যারটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে এবং তার পরপরই নীতিমালা জারির বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) জানায়, আগামী শনিবার শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন আনুষ্ঠানিকভাবে বদলি সফটওয়্যারটির উদ্বোধন করবেন। সফটওয়্যার উদ্বোধনের এই কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পরের দিন, অর্থাৎ রবিবার, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকে চূড়ান্ত পর্যালোচনা শেষে সংশোধিত বদলি নীতিমালা জারি করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা, যিনি নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেন, জানান যে সংশোধিত বদলি নীতিমালার খসড়া ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘নীতিমালাটি সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত রয়েছে। এখন শুধু সফটওয়্যার উদ্বোধনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে শিক্ষা সচিবের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। সেই আলোচনার ভিত্তিতেই নীতিমালাটি জারি করা হবে।’
অন্যদিকে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রমকে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) ইতোমধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা আয়োজন করেছে। অনলাইন প্ল্যাটফর্ম জুমে অনুষ্ঠিত এই সভায় দেশের বিভিন্ন উপজেলা ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং আঞ্চলিক কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন। বুধবার রাত ৮টায় শুরু হওয়া এই সভা টানা রাত ১০টা পর্যন্ত চলে।
সভায় সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন মাউশির উপ-পরিচালক (মাধ্যমিক) মো. ইউনুছ ফারুকী। সভায় মূলত শিক্ষকদের বদলি প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত নতুন সফটওয়্যারটির বিভিন্ন দিক বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করা হয়।
সভা সূত্রে জানা যায়, সফটওয়্যারটির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানপ্রধানরা যে তথ্য প্রদান করবেন, তা কীভাবে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা যাচাই করবেন, সেই প্রক্রিয়া হাতে-কলমে দেখানো হয়েছে। পাশাপাশি উপজেলা পর্যায় থেকে যাচাইকৃত তথ্য জেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা কীভাবে পুনরায় যাচাই করবেন এবং কলেজ সংক্রান্ত তথ্য আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-পরিচালক ও পরিচালকরা কীভাবে যাচাই করবেন, সে বিষয়েও ধাপে ধাপে নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সভায় উপস্থিত একজন কর্মকর্তা জানান, এ সভায় কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি। বরং এটি ছিল একটি ওরিয়েন্টেশনধর্মী সভা, যেখানে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তাকে সফটওয়্যার ব্যবহারের পদ্ধতি এবং কার্যক্রম পরিচালনার ধাপগুলো বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা মূলত সফটওয়্যারটি কীভাবে কাজ করে, সেটি সবাইকে দেখিয়েছি। একইসঙ্গে প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের দেওয়া তথ্য যাচাইয়ের পদ্ধতিও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। সভায় অংশগ্রহণকারী সবাই সফটওয়্যারটি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। আমরা আশা করছি, খুব দ্রুতই শিক্ষকদের তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে।’
Leave a Reply