এমপিরওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের এপ্রিল মাসের এমপিওর টাকা ইএফটিতে পাঠানোর জন্য প্রতিষ্ঠান প্রধানকে বিল সাবমিটের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ২৪ এপ্রিলের মধ্যে এ বিল সাবমিট করতে হবে।
বুধবার মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ইএফটি (EFT) পদ্ধতিতে দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে প্রেরণের লক্ষ্যে অনলাইন বিল সাবমিট কার্যক্রম আরও জোরদার করেছে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর। এ প্রেক্ষিতে আগামী ২৪ এপ্রিল ২০২৬ তারিখের মধ্যে এপ্রিল মাসের এমপিও বিল অনলাইনে জমা দিতে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের আগস্ট মাস থেকে এমপিওর অর্থ ইএফটি’র মাধ্যমে প্রেরণের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের জন্য অনলাইনে Bill Submit করার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠান প্রধানরা তাদের নির্ধারিত আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে EMIS সিস্টেমের MPO-EFT মডিউলে লগইন করে প্রতিটি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর জন্য আলাদাভাবে প্রাপ্য অর্থ নির্ধারণ করে বিল সাবমিট করছেন। জমাকৃত তথ্যের ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীদের নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবে এমপিও’র অর্থ সরাসরি পাঠানো হচ্ছে।
নতুন এ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো শিক্ষক বা কর্মচারী মৃত্যুবরণ, পদত্যাগ বা অবসরে গেলে সংশ্লিষ্ট মাসে তার প্রাপ্যতা নির্ধারণ করে বিল সাবমিট করতে হবে। একইভাবে, সাময়িক বরখাস্ত, অনুমোদনহীন অনুপস্থিতি বা অন্য কোনো কারণে বেতন আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ করার প্রয়োজন হলে তা বিল সাবমিট অপশনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।
এছাড়া, যেসব শিক্ষক-কর্মচারী নিয়মিত বেতনের জন্য প্রাপ্য নন কিন্তু তাদের বকেয়া অনুমোদিত হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে “আংশিক পেমেন্ট” অপশন ব্যবহার করে বিল জমা দিতে হবে। এতে করে তাদের প্রাপ্য অর্থ যথাযথভাবে প্রেরণ করা সম্ভব হবে।
অধিদপ্তর স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এমপিও অর্থ ইএফটি’র মাধ্যমে প্রেরণের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান প্রধান কর্তৃক দাখিলকৃত তথ্যই চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে। ফলে কোনো ভুল তথ্যের কারণে যদি কোনো শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন প্রেরণ ব্যাহত হয় বা অতিরিক্ত অর্থ প্রেরিত হয়, তার সম্পূর্ণ দায়ভার প্রতিষ্ঠান প্রধানকেই বহন করতে হবে।
এদিকে, শুধুমাত্র আইবাস (iBAS++) সিস্টেমে যাচাইকৃত (Valid) জনবলের তথ্যই বর্তমানে বিল সাবমিট অপশনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যাদের তথ্য এখনো অসম্পূর্ণ বা ত্রুটিপূর্ণ রয়েছে, তাদের তথ্য সংশোধন ও যাচাই শেষে পরবর্তীতে সিস্টেমে যুক্ত করা হবে বলে জানা গেছে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অনলাইনভিত্তিক এই বিল সাবমিট ও ইএফটি পদ্ধতি চালুর ফলে এমপিও কার্যক্রমে দীর্ঘদিনের জটিলতা কমবে, সময় সাশ্রয় হবে এবং দুর্নীতি বা অনিয়মের সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। তবে সিস্টেমটি কার্যকর রাখতে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের আরও সতর্ক ও দায়িত্বশীল হওয়ার বিকল্প নেই।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিল জমা না দিলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন প্রাপ্তিতে বিলম্ব হতে পারে বলেও সতর্ক করেছে অধিদপ্তর। ফলে সময়সীমা মেনে যথাযথ তথ্যসহ বিল সাবমিট করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

Leave a Reply