দেশে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশনা চেয়ে দায়ের করা রিট আবেদনের শুনানির জন্য আগামী সোমবার, ২০ এপ্রিল দিন ধার্য করেছেন বাংলাদেশ হাইকোর্ট। রবিবার (১৯ এপ্রিল) বিচারপতি রাজিক আল জলিল এবং বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরী-এর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ দিন নির্ধারণ করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রিটকারী আইনজীবী লুৎফে জাহান পূর্ণিমা। এর আগে গত ২ এপ্রিল তিনি হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট আবেদন দায়ের করেন। রিটে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্তৃপক্ষকে বিবাদী করা হয়েছে।
রিট আবেদনে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র আদালতের সামনে তুলে ধরার জন্য নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। এতে হামে আক্রান্তের সংখ্যা, মৃত্যুর হার, সংক্রমণের বিস্তার, টিকাদানের অগ্রগতি এবং টিকার প্রাপ্যতা সংক্রান্ত বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিলের আবেদন জানানো হয়েছে। পাশাপাশি টিকাদানে ঘাটতি, সরবরাহ সংকট এবং টিকা পৌঁছাতে বিলম্বের কারণ অনুসন্ধানে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনের দাবিও উত্থাপন করা হয়েছে। আবেদনকারীর দাবি, এসব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের ব্যর্থতা সংবিধানের ২৭, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদের লঙ্ঘনের শামিল।
রিটে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে যে রোগকে হামের প্রাদুর্ভাব হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে, সেটি আদৌ হাম কি না—নাকি অন্য কোনো সংক্রামক রোগ—তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় তদন্তের নির্দেশনাও আদালতের কাছে চাওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ১ এপ্রিল দেশের শিশুদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে হামের টিকা নিশ্চিত করতে সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়। মানবাধিকার কর্মী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী একলাছ উদ্দিন ভূঁইয়া এ নোটিশ জারি করেন। নোটিশে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে বিবাদী করা হয়।
লিগ্যাল নোটিশে উল্লেখ করা হয়, টিকার অভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে হামে আক্রান্ত হয়ে শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে এবং অসংখ্য শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। অথচ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করা হয়। নোটিশের সঙ্গে পত্রিকায় প্রকাশিত ‘হামে আরও দুই শিশুর মৃত্যু, উপসর্গ নিয়ে ভর্তি শতাধিক’ শিরোনামের প্রতিবেদন সংযুক্ত করা হয়।
এছাড়া নোটিশে স্পষ্টভাবে বলা হয়, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হবে। পরবর্তীতে সেই ঘোষণার ধারাবাহিকতায়ই এই রিট আবেদন দাখিল করা হয়েছে।
Leave a Reply