বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত শিক্ষক ও কর্মচারীদের জন্য বহু প্রতীক্ষিত বদলি প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সফটওয়্যার প্রস্তুতের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, আগামী মাস থেকেই বদলি কার্যক্রমের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে তথ্য সংগ্রহ শুরু হতে পারে।
রবিবার (১৯ এপ্রিল) এ বিষয়ে আলাপকালে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল জানান, বদলি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার ইতোমধ্যেই সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই সফটওয়্যারটি লাইভ বা কার্যকর করা সম্ভব হবে। এই সফটওয়্যার উন্নয়ন ও কারিগরি কাজের সঙ্গে টেলিটক যুক্ত রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আগামী মাসের শুরুতেই মাঠ পর্যায় থেকে সংশ্লিষ্ট তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করা হবে এবং এসব তথ্য সফটওয়্যারে ইনপুট দেওয়ার পরপরই বদলি আবেদন গ্রহণ প্রক্রিয়া চালু করা হবে।
শিক্ষকদের বদলি আবেদন গ্রহণ কবে নাগাদ শুরু হতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রফেসর সোহেল আরও বলেন, মে মাসের মধ্যেই এ কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে এবং এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে।
প্রসঙ্গত, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) কর্তৃক সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের শুরুতে বদলির কোনো সুযোগ ছিল না। তারা কেবল প্রকাশিত গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আবেদন করে প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের সুযোগ পেতেন। প্রথম থেকে তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তি পর্যন্ত ইনডেক্সধারী শিক্ষকরা এই সুবিধা ভোগ করতে পারলেও চতুর্থ গণবিজ্ঞপ্তি থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ সুযোগ বন্ধ করে দেয়।
পরবর্তীতে শিক্ষকদের আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বদলি ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করে এবং এ লক্ষ্যে একটি বদলি নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়। তবে বাস্তবায়নের পথে নানা জটিলতা দেখা দেয়। শিক্ষকদের একটি পক্ষের দায়ের করা রিট, সফটওয়্যার প্রস্তুতে বিলম্ব, নীতিমালার সংশোধনসহ একাধিক কারণে দীর্ঘদিন ধরেই বদলি কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি।
যদিও ইতোমধ্যে সংশোধিত বদলি নীতিমালা জারি করা হয়েছে, তবুও সফটওয়্যার প্রস্তুত না থাকায় কার্যক্রম শুরু নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। পরে সফটওয়্যারের ডেমো প্রদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হলে তা অনুমোদন পায়। তবে এখনো মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ শুরু না হওয়ায় বাস্তবে বদলি কার্যক্রম চালু হতে আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
Leave a Reply