পরীক্ষায় বহুল আলোচিত ‘নীরব বহিষ্কার’ পদ্ধতি দীর্ঘদিন ধরে চালু থাকলেও সেটি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, পরীক্ষার্থীরা যেন স্বস্তিদায়ক ও আনন্দময় পরিবেশে পরীক্ষা দিতে পারে, সে বিষয়টি সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। শিক্ষার্থীদের ওপর কোনো ধরনের অতিরিক্ত মানসিক চাপ সৃষ্টি করে—এমন কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে না বলেও তিনি জোর দিয়ে বলেন।
শনিবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। আসন্ন এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে এই সভায় বিভিন্ন অংশীজন অংশগ্রহণ করেন। সভায় উপস্থিতদের সম্মিলিত আলোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, আগামী এইচএসসি পরীক্ষা ২ জুলাই থেকে শুরু হবে এবং তা টানা পাঁচ সপ্তাহ ধরে চলবে।
মতবিনিময়ের একপর্যায়ে ‘নীরব বহিষ্কার’ বিষয়ে মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে উপস্থিত সবাই এ বিষয়ে মতামত প্রদান করেন। আলোচনার পর সর্বসম্মতিক্রমে এই বিতর্কিত পদ্ধতিটি সম্পূর্ণভাবে বাতিল করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের প্রতিনিধিরা, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা সরাসরি উপস্থিত ছিলেন এবং অনেকেই অনলাইন প্ল্যাটফর্ম জুমের মাধ্যমেও যুক্ত হন।
এছাড়া সভায় এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি পেছানো এবং নতুন রুটিন প্রণয়ন নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। শিক্ষার্থীদের মতামত ও তাদের সুবিধার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণে পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে জানানো হয়।
সভা শেষে মন্ত্রী আরও বলেন, পরীক্ষা সংক্রান্ত কোনো বিধিমালায় অযৌক্তিক বা ‘আনডিউ’ কোনো বিষয় থাকতে পারে না। তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৮০ সালের পাবলিক পরীক্ষা আইনে ‘নীরব বহিষ্কার’-এর মতো কোনো বিধান নেই। মূলত ১৯৬১ সালের শিক্ষা বোর্ডের নীতিমালায় এ ধরনের ধারা সংযোজন করা হয়েছিল।
বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে মন্ত্রী বলেন, এখন পরীক্ষাকেন্দ্রে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ নেই, ফলে এই পুরনো নীতিমালা আর কার্যকর বা প্রযোজ্য নয়। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে এ সংক্রান্ত নীতিমালা সংশোধনের জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা প্রদান করেন।
উল্লেখ্য, প্রায় সাত বছর পর এবার পূর্ণ সিলেবাসে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। অন্যদিকে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ক্লাস কার্যক্রম শুরু হয়েছে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। সে হিসেবে শিক্ষার্থীরা পূর্ণ দুই বছর সময় সম্পন্ন করার জন্য আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় চেয়েছিল। তবে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং বিস্তারিত আলোচনার পর শেষ পর্যন্ত ২ জুলাই থেকেই পরীক্ষা গ্রহণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
Leave a Reply