চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী আগামী ৭ জুন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, পরীক্ষা শুরু হবে ২ জুলাই থেকে। হঠাৎ এই পরিবর্তনের পেছনে কী কারণ কাজ করেছে—তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্ন উঠেছে সংশ্লিষ্ট মহলে।
শনিবার এইচএসসি পরীক্ষা সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সেখানে বিস্তারিত আলোচনা শেষে পরীক্ষার তারিখ পিছিয়ে দেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত মত আসে।
সভা সূত্রে জানা গেছে, মূলত দুটি প্রধান কারণ বিবেচনায় এনে আগের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়েছে। প্রথমত, পরীক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছিল যে পরীক্ষা জুলাই মাসে শুরু করা হোক। দ্বিতীয়ত, যেসব শিক্ষার্থী এবার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেবে, তাদের পাঠদান কার্যক্রম যথাসময়ে শুরু না হওয়ায় সেই বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সভায় উপস্থিত একটি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান জানান, সভার শুরুতেই একটি পক্ষ যুক্তি তুলে ধরে যে পরীক্ষার্থীদের ক্লাস কার্যক্রম সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে, ফলে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী পরীক্ষা নিলে অনেক শিক্ষার্থী পর্যাপ্ত প্রস্তুতির সুযোগ পাবে না। এছাড়া ৭ জুন থেকে পরীক্ষা শুরুর খবর প্রকাশ পাওয়ার পর থেকেই শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে পরীক্ষা পেছানোর দাবি জানিয়ে আসছিল। এসব বিষয় বিবেচনা করেই শেষ পর্যন্ত ২ জুলাই থেকে পরীক্ষা শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এদিকে, চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা দ্রুত সম্পন্ন করার লক্ষ্যেও একটি প্রাথমিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পুরো পরীক্ষা কার্যক্রম প্রায় পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে শেষ করার চেষ্টা করা হবে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে পরীক্ষার রুটিন প্রকাশের মাধ্যমে।
তথ্য অনুযায়ী, গত বছর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২৬ জুন শুরু হয়ে ২১ আগস্ট পর্যন্ত চলেছিল, অর্থাৎ পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে প্রায় দুই মাস সময় লেগেছিল। দীর্ঘ এই সময়সীমার কারণে শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নানা জটিলতা ও চাপের মধ্যে থাকতে হয়। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার সময়সীমা কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হচ্ছে—এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় প্রথমবারের মতো দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডসহ মোট ১১টি বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। আগে মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রের প্রচলন থাকলেও সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর ক্ষেত্রে আলাদা আলাদা প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়া হতো। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে মূল্যায়ন পদ্ধতিতে সমতা ও স্বচ্ছতা বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Leave a Reply