1. admin@kp-nat.com : admin : Ayub Ali
  2. ayub.bhs@gmail.com : Ayub ali : Ayub ali
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০২:৪৭ পূর্বাহ্ন
Title :
৯ম শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি নিয়ে যা জানাল শিক্ষা মন্ত্রণালয় নিজ দল থেকে বহিস্কৃত হলেন জামায়াতে ইসলামের আলোচিত সমালোচিত সেই এমপি এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজের জুলাই মাসের বেতনের প্রস্তাব কোনদিন যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জানাল মাউশি বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে বিদ্যালয়ের বাহিরে যেতে পারবেন না শিক্ষক এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ কোনদিন জানাল আন্তঃশিক্ষা বোর্ড এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জুলাইয়ের বেতন নিয়ে যা জানাল মন্ত্রণালয় MPO মাদ্রাসা শিক্ষকদের বদলি নিয়ে তৈরি হয়েছে যে কারণে অনিশ্চয়তা এমপিও শিক্ষকদের বদলি আবেদনের অনুমতি চেয়ে চিঠি কবে, জানালেন মাউশি বেসরকারী এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের নিয়োগের ক্ষমতা আবারও ম্যানেজিং কমিটির হাতে এনটিআরসিএ-র নবম নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হবে যে সকল বিষয়ে

জাল সনদধারীর তালিকা মন্ত্রণালয়ে, এমপিও বন্ধ সহ যে সকল নির্দেশনা আসছে

  • Update Time : সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৪২৮ Time View
জাল সনদ

বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত প্রায় ৫০০ জন জাল সনদধারী শিক্ষক-কর্মচারীর একটি বিস্তারিত তালিকা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে পাঠানো হয়েছে। এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। এর মধ্যে রয়েছে তাদের মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার (এমপিও) সুবিধা বন্ধ করা, তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা এবং এতদিন ধরে বেতন-ভাতা হিসেবে সরকারের কাছ থেকে গ্রহণ করা অর্থ ফেরত দেওয়ার নির্দেশনা জারি করা। এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হতে যাচ্ছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)-কে।

ডিআইএ (পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর) সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো তালিকায় মোট ৪৭১ জন শিক্ষক-কর্মচারীর তথ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে ১৯৪ জন শিক্ষক বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)-এর সনদ জাল করে চাকরি নিয়েছেন। এছাড়া ২২৯ জন ব্যক্তি কম্পিউটার প্রশিক্ষণের সনদ জাল করে নিয়োগ পেয়েছেন। আরও ৪৮ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিপিএড, বিএড, গ্রন্থাগার বিজ্ঞানসহ অন্যান্য শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ জাল করার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

এ বিষয়ে ডিআইএ পরিচালক প্রফেসর এম. এম সহিদুল ইসলাম জানান, সীমিত জনবল এবং নানা প্রতিকূলতা থাকা সত্ত্বেও তারা দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে এসব অনিয়ম চিহ্নিত করেছেন। প্রতিটি নিরীক্ষা প্রতিবেদনে জাল সনদ সংক্রান্ত তথ্য এবং প্রতিষ্ঠানের জমি বেহাত হওয়ার মতো গুরুতর বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি বলেন, এসব অনিয়ম তুলে ধরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, ডিআইএ থেকে পাঠানো তালিকাটি আনুষ্ঠানিক চিঠির মাধ্যমে মাউশির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। যেহেতু এসব শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন-ভাতা মাউশির মাধ্যমেই প্রদান করা হয়, তাই তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দায়িত্বও মাউশির ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে জাল সনদধারীদের কাছ থেকে ইতোমধ্যে গ্রহণ করা বেতন-ভাতা ফেরত আদায়ের নির্দেশনা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে মামলা দায়েরের বিষয়টিও গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের যুগ্মসচিব (নিরীক্ষা) মোহাম্মদ আশরাফুল আলম খান জানান, ডিআইএ থেকে প্রাপ্ত তালিকার ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মাউশিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশও করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো আরও জানায়, ২০১২ সাল থেকে ডিআইএ জাল সনদ শনাক্তকরণ কার্যক্রম শুরু করে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি এই নতুন তালিকা প্রণয়ন করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এর আগে ২০২৩ সালের শুরুতে স্কুল-কলেজের ৬৭৮ জন এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২০০ জন জাল সনদধারীর তালিকাও মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। তখন কিছু ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে জানা গেছে, মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অনেক শিক্ষক-কর্মচারী উচ্চ আদালতে রিট দায়ের করেছেন। এসব মামলার কারণে অনেক ক্ষেত্রেই জাল সনদধারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়া থমকে আছে।

ডিআইএ কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভেতরে একটি অদৃশ্য সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে, যার কারণে জাল সনদধারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। তারা মনে করেন, এই সিন্ডিকেট ভাঙতে না পারলে জাল সনদের মাধ্যমে নিয়োগ বন্ধ করা সম্ভব হবে না এবং রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয়ও অব্যাহত থাকবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিআইএ-এর এক কর্মকর্তা বলেন, অতীতে যেসব তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল, সেগুলোর অনেকগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বিশেষ করে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অধীন জাল সনদধারীদের বিরুদ্ধে তেমন কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। তিনি বলেন, বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।

এদিকে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও জাল সনদধারীদের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে রয়েছে। ডিআইএ সূত্রে জানা গেছে, এসব প্রতিষ্ঠানে ২৫০ জনের বেশি জাল সনদধারী শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যেই এই তালিকা কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগে পাঠানো হবে বলে জানা গেছে।

আরেকজন কর্মকর্তা জানান, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন প্রতিষ্ঠানে মোট ২৬৮ জন জাল সনদধারী রয়েছে। তালিকা তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে এবং খুব শিগগিরই তা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

ডিআইএ-এর পরিদর্শন কার্যক্রমে দেখা গেছে, গত ২০২১-২২ অর্থবছর থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সারা দেশের ৭ হাজার ৩৮২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে মোট ৭৩৯ জন জাল সনদধারী শনাক্ত করা হয়েছে। এসব ব্যক্তির কাছ থেকে সরকারের পাওনা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৩৪ কোটি টাকা।

তথ্য অনুযায়ী, এই পাঁচ বছরে ডিআইএ মোট ৮ হাজার ১৮টি প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে। এর মধ্যে ২০২১-২২ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মধ্যে ৭ হাজার ৯৮টি প্রতিবেদন পাঠানো হয়। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসেই আরও ৭৩৬টি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে ১ হাজার ৮২টি প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।

বছরভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২১-২২ অর্থবছরে ২ হাজার ১০৩টি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে ৮৬টি জাল সনদ শনাক্ত করা হয় এবং প্রায় ৪৩ কোটি ৫৩ লাখ টাকা আদায়যোগ্য নির্ধারণ করা হয়। পরবর্তী ২০২২-২৩ অর্থবছরে জাল সনদের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১২৭টিতে এবং আদায়যোগ্য অর্থ বৃদ্ধি পেয়ে ৯৬ কোটি ৪৯ লাখ টাকায় পৌঁছে। ওই বছর ২ হাজার ২০৯টি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করা হলেও প্রতিবেদন কমে দাঁড়ায় ১ হাজার ৩৪৯টিতে।

২০২৩-২৪ অর্থবছরে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৩৫৮টি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে ১০৫টি জাল সনদ শনাক্ত করা হয় এবং প্রায় ৮৩ কোটি ৮৯ লাখ টাকা আদায়যোগ্য হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি ২ হাজার ৮৩২টি প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়, যদিও পরিদর্শনের সংখ্যা তুলনামূলক কম ছিল। ওই বছর সর্বোচ্চ ২৭৪টি জাল সনদ শনাক্ত হয় এবং প্রায় ১৯৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকা আদায়যোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম আট মাসেই আরও ১৪৭টি জাল সনদ শনাক্ত হওয়ায় মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৩৯-এ। একই সময়ে আদায়যোগ্য অর্থের পরিমাণও বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৩৪ কোটিতে, যা রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যবস্থাপনায় একটি বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আমার খবর
© All rights reserved © 2025 Kisukhoner Pathshala
Customized By BlogTheme