বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এনটিআরসিএ-এর মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগে দীর্ঘসূত্রতার কারণে পাঠদান কার্যক্রমে যে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে, তা সামাল দিতে সরকার একটি অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এ প্রেক্ষিতে শ্রেণিকক্ষের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে অবসরপ্রাপ্ত কিন্তু শারীরিকভাবে সক্ষম শিক্ষকদের সমন্বয়ে একটি ‘শিক্ষক পুল’ গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে দেশের সব জেলা প্রশাসকদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
রোববার (১২ এপ্রিল) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বিদ্যমান শিক্ষক সংকট এবং এনটিআরসিএ-এর মাধ্যমে নতুন শিক্ষক নিয়োগে বিলম্বের কারণে অনেক প্রতিষ্ঠানে পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে অভিজ্ঞ ও সক্ষম অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, শিক্ষার গুণগত মান বজায় রাখা এবং শ্রেণিকক্ষের পাঠদান কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখার লক্ষ্যে উপজেলা পর্যায়ে অবসরপ্রাপ্ত ও শারীরিকভাবে সক্ষম শিক্ষকদের সমন্বয়ে একটি পুল গঠন করতে হবে। এই পুল গঠনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে এবং স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি, গভর্নিং বডি বা অ্যাডহক কমিটির অনুমোদন নিতে হবে।
উপজেলা ভিত্তিক এই শিক্ষক পুল থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী সাময়িকভাবে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া যাবে। অর্থাৎ, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক স্বল্পতা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট কমিটির অনুমোদনের ভিত্তিতে ওই পুল থেকে উপযুক্ত শিক্ষক নিয়ে এসে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। এতে করে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে এবং শিক্ষা কার্যক্রমে অচলাবস্থা তৈরি হবে না।
এছাড়া বিজ্ঞপ্তিতে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে বলা হয়—এই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের প্রদেয় সম্মানী সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিজস্ব তহবিল থেকে বহন করতে হবে। প্রতিষ্ঠানের অত্যাবশ্যকীয় ব্যয় খাত থেকে এ সম্মানী প্রদান করা হবে বলে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করার জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছেও অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সার্বিকভাবে, শিক্ষক সংকটজনিত সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সম্পৃক্ত করার এই উদ্যোগকে একটি অন্তর্বর্তী কিন্তু কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, যা নতুন শিক্ষক নিয়োগ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
Leave a Reply