শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, পাবলিক পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য বারবার পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ সীমিত করার বিষয়ে সরকার গুরুত্বসহকারে চিন্তা করছে। তার ভাষায়, কোনো শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ দুইবারের বেশি একই পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে না—এমন একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা তুলে ধরেন। এ সময় তিনি দেশের বিদ্যমান পরীক্ষা ব্যবস্থা ও শিক্ষার গুণগত মান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যেখানে একজন শিক্ষার্থী একবার নয়, বরং দুইবার, এমনকি তিন বা চারবার পর্যন্ত ফেল করার পরও তাকে পুনরায় পড়াশোনার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, নতুন করে রেজিস্ট্রেশন করা হচ্ছে এবং আবার পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন—এই ধারাবাহিক প্রক্রিয়া আসলে কতটা কার্যকর এবং এটি শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়নে কতটা ভূমিকা রাখছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বারবার ফেল করা শিক্ষার্থীদের পাস করানোর জন্য অতিরিক্ত সুযোগ সৃষ্টি করতে গিয়ে আমরা কি মূল লক্ষ্য থেকে সরে যাচ্ছি না—এই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে। তার মতে, শুধুমাত্র পাসের হার বাড়ানোর দিকে নজর না দিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের দিকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমানে প্রায় ৫৬ ধরনের ভিন্ন ভিন্ন প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করা হচ্ছে, যার মূল উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের সহজে পাস করানো। কিন্তু এতে করে সামগ্রিকভাবে শিক্ষার মান উন্নত হচ্ছে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তিনি ইঙ্গিত দেন যে, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে শিক্ষার গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সবশেষে তিনি জোর দিয়ে বলেন, আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত একটি শক্তিশালী ও মানসম্পন্ন শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা। শুধুমাত্র ফেল করা শিক্ষার্থীদের পাস করানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে, পুরো শিক্ষা কাঠামোকে যুগোপযোগী ও কার্যকর করে তোলার দিকেই গুরুত্ব দিতে হবে।
Leave a Reply