শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে দৃঢ় আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, অতীতের মতো এবারও তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে এবং তারা যেন নির্ভয়ে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ খ্রিষ্টাব্দ সময়কালে শিক্ষকদের সক্রিয় সহযোগিতার মাধ্যমেই পাবলিক পরীক্ষাগুলোতে নকল বন্ধ করা সম্ভব হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, বর্তমান সময়েও শিক্ষকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সম্পূর্ণ নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা আয়োজন করা সম্ভব হবে।
শুক্রবার অনুষ্ঠিত এক ভার্চুয়াল জুম সভায়, যেখানে চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডসহ এ অঞ্চলের মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডগুলোর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬-এর কেন্দ্র সচিবরা অংশ নেন, সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত হয়ে মন্ত্রী এসব গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন। সভায় তিনি নকল প্রতিরোধ, পরীক্ষার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বেশ কিছু প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেন বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
সভায় কেন্দ্র সচিবদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী স্পষ্টভাবে বলেন, পরীক্ষাকে ঘিরে কোনো ধরনের অযৌক্তিক ভয় বা আতঙ্ক সৃষ্টি করা যাবে না। বরং একটি স্বাভাবিক ও শান্ত পরিবেশ বজায় রেখে পরীক্ষা পরিচালনা করতে হবে। তিনি প্রতিটি পরীক্ষা কক্ষে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা (সিসি ক্যামেরা) স্থাপনের ওপর জোর দেন, যাতে প্রতিটি কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা যায়। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সম্ভাবনা বিবেচনায় রেখে নিরবচ্ছিন্ন পর্যবেক্ষণ বজায় রাখতে বিকল্প হিসেবে আইপিএস ব্যবহারের নির্দেশনা দেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম অঞ্চলের পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
খাতা মূল্যায়নের বিষয়ে মন্ত্রী পরীক্ষকদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, পরীক্ষার্থীর খাতায় যা-ই লেখা থাকুক না কেন, শুধুমাত্র সঠিক উত্তরের ভিত্তিতেই নম্বর প্রদান করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই অতিরিক্ত নম্বর দেওয়া কিংবা নম্বর কমিয়ে দেওয়ার মতো অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। এতে পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় থাকবে বলে তিনি মনে করেন।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়ে কঠোর অবস্থান জানিয়ে মন্ত্রী এটিকে একটি গুরুতর অপরাধ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোনো ঘটনা ঘটেনি এবং সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এবারও সর্বোচ্চ সতর্কতা গ্রহণ করা হবে। এ ধরনের অপরাধে যারা জড়িত থাকবে, তাদের কঠোরভাবে আইনের আওতায় আনা হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
আসন্ন এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সফলভাবে সম্পন্ন করতে তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং গণমাধ্যমকর্মীদের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন। পাশাপাশি একটি মেধাভিত্তিক ও উন্নত জাতি গঠনের লক্ষ্যে সমাজের সকল স্তরের মানুষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
উক্ত সভায় চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট সকল কেন্দ্র সচিব এবং দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
Leave a Reply