যানজট কমানো, জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করা এবং একই সঙ্গে শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার লক্ষ্য নিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন ও অফলাইন—দুই ধরনের ক্লাস চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে সপ্তাহে ছয় দিনের ক্লাসসূচি এমনভাবে সাজানো হবে, যেখানে তিন দিন সশরীরে (অফলাইন) এবং তিন দিন অনলাইনে পাঠদান পরিচালিত হবে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় অবস্থিত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। এ সময় তিনি বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে নগরজীবনের অন্যতম বড় সমস্যা যানজট, যার ফলে সময় ও জ্বালানির অপচয় হচ্ছে। এই সমস্যা আংশিকভাবে লাঘব করতেই শিক্ষাক্ষেত্রে বিকল্প পদ্ধতি হিসেবে ব্লেন্ডেড লার্নিং বা অনলাইন-অফলাইনের সমন্বিত ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, শুরুতে এই পদ্ধতি কেবল ঢাকা মহানগরের কিছু নির্দিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হবে। উদাহরণ হিসেবে তিনি কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করেন, যেমন—ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ এবং রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ। তবে কোন কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ব্যবস্থা চূড়ান্তভাবে চালু করা হবে, সে বিষয়ে এখনো শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক তালিকা প্রকাশ করা হয়নি।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “আমরা প্রথমে ঢাকার কিছু প্রতিষ্ঠানে এটি বাস্তবায়ন করতে চাই। ভিকারুননিসা হতে পারে, রাজউক হতে পারে, রেসিডেন্সিয়ালও থাকতে পারে। এছাড়া যেসব প্রতিষ্ঠান আগ্রহ দেখাবে, তারাও এতে অংশ নিতে পারবে। বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি এবং অনলাইন ক্লাস পরিচালনার মতো অবকাঠামোগত সক্ষমতা রয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।”
নতুন এই ব্যবস্থার আওতায় যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন ক্লাস চালু হবে, সেখানে সাপ্তাহিক ছুটির দিন শনিবার বাতিল করা হবে। পরিবর্তিত সময়সূচি অনুযায়ী শনিবার, সোমবার এবং বুধবার সশরীরে ক্লাস অনুষ্ঠিত হবে। এই তিন দিনে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সরাসরি শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত থাকতে হবে।
অন্যদিকে রবিবার, মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার অনলাইনে ক্লাস পরিচালিত হবে। এই দিনগুলোতে শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ বাসা থেকে অনলাইনে ক্লাসে অংশগ্রহণ করবে। তবে শিক্ষকদের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রাখা হয়েছে—তাদেরকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিত থেকেই অনলাইন ক্লাস নিতে হবে। অর্থাৎ, স্কুল বা কলেজ থেকেই প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সুবিধা ব্যবহার করে শিক্ষকরা পাঠদান করবেন এবং শিক্ষার্থীরা ভার্চুয়ালি তাতে যুক্ত হবে।
মন্ত্রী আরও স্পষ্ট করে বলেন, “শিক্ষকদের স্কুলে এসে অনলাইনে ক্লাস নিতে হবে। সেখানে সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা থাকবে। শিক্ষার্থীরা বাসা থেকে অনলাইনে সংযুক্ত হবে।”
তিনি জানান, ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি এবং অবকাঠামোগত সক্ষমতা রয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠানেই প্রাথমিকভাবে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে। তবে এটি সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে না। কারণ, এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না যাতে শিক্ষাব্যবস্থায় কোনো ধরনের বিঘ্ন বা ধস নামে। বরং ধীরে ধীরে পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী এ ব্যবস্থার পরিধি বাড়ানো হতে পারে।
Leave a Reply