বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে দেশের একমাত্র কেন্দ্রীয় সংস্থা বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) প্রবেশ পর্যায়ের শিক্ষক নিয়োগে সুপারিশ প্রদান করে থাকে। দীর্ঘদিন ধরে এই সংস্থার মাধ্যমে নিবন্ধনধারী প্রার্থীদের মধ্য থেকে যোগ্য শিক্ষক নির্বাচন করা হলেও এবার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় গতি আনার লক্ষ্যে বড় ধরনের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে আগামী ১৮ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রধান পদে নিয়োগের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা আয়োজন করতে যাচ্ছে এনটিআরসিএ, যা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক শীর্ষ পদে নিয়োগ কার্যক্রমের সূচনা করবে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) নিজ দপ্তরে গণমাধ্যম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম জানান, সংস্থাটি ভবিষ্যতে বছরে চারবার নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনার একটি সুপরিকল্পিত রোডম্যাপ তৈরি করছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রবেশ পর্যায়ের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় লিখিত পরীক্ষা বাদ দেওয়ায় পুরো কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে ই-রেজিস্ট্রেশন, ই-রিকুইজিশন, এমসিকিউ পরীক্ষা এবং মৌখিক পরীক্ষা সম্পন্ন করে চূড়ান্ত সুপারিশ দিতে সর্বোচ্চ ছয় মাস সময় লাগবে।
তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, একইভাবে প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রধান—যারা একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক নেতৃত্ব প্রদান করেন—তাদের নিয়োগ কার্যক্রমও ছয় মাসের মধ্যেই শেষ করা সম্ভব। এই সময়সীমা নিশ্চিত করা গেলে বছরে অন্তত দুইবার প্রবেশ পর্যায়ের শিক্ষক নিয়োগ এবং দুইবার প্রশাসনিক শীর্ষ পদে নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করা বাস্তবসম্মত হবে। এর ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে শূন্যপদ পড়ে থাকার সমস্যা অনেকাংশে কমে আসবে এবং শিক্ষার মানোন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
চেয়ারম্যান আরও জানান, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপ প্রণয়ন করা হচ্ছে, যা চূড়ান্ত করার আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়-এর সঙ্গে আলোচনা করা হবে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়া গেলে ধাপে ধাপে এই নতুন নিয়োগ কাঠামো কার্যকর করা হবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, প্রযুক্তিনির্ভর এই দ্রুততর নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু হলে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সময়সাশ্রয়—সব দিক থেকেই একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বছরে চারবার নিয়োগ কার্যক্রম চালু করা গেলে একদিকে যেমন শিক্ষক সংকট দ্রুত পূরণ করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে যোগ্য প্রার্থীরাও অপেক্ষার দীর্ঘসূত্রতা থেকে মুক্তি পাবেন। ফলে শিক্ষা ব্যবস্থার সামগ্রিক গতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে এবং বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আরও কার্যকরভাবে পরিচালিত হতে পারবে।
Leave a Reply