বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক বদলি প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছেন বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ-এর চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, বর্তমানে প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগ কার্যক্রম চলমান থাকায় এবং বদলি প্রক্রিয়ায় নতুন কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সংযোজন হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সফটওয়্যার উন্নয়নের কাজ চলছে। এই কারিগরি উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হলেই শিক্ষক বদলি কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম স্পষ্টভাবে বলেন, শিক্ষক নিয়োগ বা বদলি—উভয় প্রক্রিয়াই শতভাগ স্বয়ংক্রিয়ভাবে টেলিটকের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়ে থাকে। এখানে কোনো ধরনের মানবীয় হস্তক্ষেপ বা ব্যক্তিগত বিবেচনার সুযোগ নেই। তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, কোনো প্রার্থী যদি তুলনামূলক কম নম্বর পাওয়ার কারণে নিজের পছন্দক্রম অনুযায়ী প্রতিষ্ঠান না পান কিংবা দূরবর্তী কোনো প্রতিষ্ঠানে নিয়োগপ্রাপ্ত হন, তাহলে পরবর্তীতে সেটি পরিবর্তন করার কোনো সুযোগ নেই। কারণ পুরো প্রক্রিয়াটি প্রার্থীর প্রাপ্ত নম্বর, মেধা তালিকা এবং তার দেওয়া চয়েজের ভিত্তিতে একটি অটোমেটেড সিস্টেমের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়।
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, প্রতিষ্ঠান নির্ধারণের ক্ষেত্রে এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষের ব্যক্তিগতভাবে কোনো হস্তক্ষেপ করার সুযোগ নেই। সবকিছুই নির্ধারিত নিয়ম, মেধা এবং প্রযুক্তিনির্ভর পদ্ধতির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়, যা প্রক্রিয়াটিকে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ রাখে।
বদলি কার্যক্রম বিলম্বিত হওয়ার পেছনের কারণ তুলে ধরে তিনি জানান, আগে শুধুমাত্র প্রবেশ পর্যায়ের শিক্ষকদের বদলির বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়েছিল। কিন্তু এখন সেই পরিধি আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিষ্ঠান প্রধান, সহকারী প্রধান এবং জেলা পর্যায়ের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদেরও বদলির আওতায় আনা হচ্ছে। ফলে এই বিস্তৃত কাঠামোকে অন্তর্ভুক্ত করতে বিদ্যমান সফটওয়্যারকে নতুনভাবে সাজাতে হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে তিনি বিস্তারিতভাবে বলেন, মেধা, প্রার্থীর পছন্দ এবং প্রাপ্ত নম্বর—এই তিনটি বিষয়ই প্রতিষ্ঠান নির্ধারণের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। এর বাইরে কোনো বিকল্প ব্যবস্থা বা বিশেষ সুযোগ নেই। বদলি প্রক্রিয়াটি বর্তমানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, পূর্বে শুধুমাত্র এন্ট্রি লেভেলের শিক্ষকদের বদলির বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে এনটিআরসিএ প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পাশাপাশি তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির যেসব কর্মচারী শিক্ষক নন, তাদের নিয়োগ কার্যক্রম জেলা পর্যায়ে পরিচালিত হচ্ছে। এই সকল শ্রেণিকে একসাথে বদলি ব্যবস্থার আওতায় আনতে গেলে সফটওয়্যার কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা প্রয়োজন হয়ে পড়ে।
সবশেষে তিনি জানান, এই কারিগরি উন্নয়ন কাজের কারণেই বদলি কার্যক্রম শুরু করতে কিছুটা সময় লাগছে। তবে কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে এবং অচিরেই এটি সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এরপরই শিক্ষক বদলি কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করা সম্ভব হবে।
Leave a Reply