বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহে প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান পদে নিয়োগের লক্ষ্যে মোট ১১ হাজার ১৫১টি শূন্যপদের বিপরীতে ৫৩ হাজার ৬৯ জন প্রার্থী আবেদন করেছেন। আজ মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) এ তথ্য নিশ্চিত করে। সংস্থাটির উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, মোট আবেদনকারীদের মধ্যে ৪৭ হাজার ৩৫১ জন পুরুষ এবং ৫ হাজার ৭১৮ জন নারী প্রার্থী রয়েছেন। এতে দেখা যায়, নারী প্রার্থীদের তুলনায় পুরুষ প্রার্থীদের অংশগ্রহণ প্রায় আট গুণ বেশি, যা নিয়োগপ্রক্রিয়ায় লিঙ্গভিত্তিক অংশগ্রহণের একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর-এর অধীন ৭ হাজার ৯০৮টি, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর-এর অধীন ১১২টি এবং মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর-এর অধীন ৩ হাজার ১৩১টি শূন্যপদ পূরণের লক্ষ্যে গত ২৫ মার্চ ‘৮ম এনটিআরসিএ নিয়োগ পরীক্ষা-২০২৬ (সংশোধিত)’ শিরোনামে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল। এই বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতেই প্রার্থীরা আবেদন করেছেন। সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামী ১৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য এই নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশাসনিক শীর্ষ পদ—যেমন প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান—পদে নিয়োগ সুপারিশ কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করা হবে। ইতোমধ্যে পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তুতি এবং পরবর্তী ধাপসমূহের কার্যক্রম সক্রিয়ভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষ তাদের কার্যপরিধি সম্পর্কেও বিস্তারিত তুলে ধরে জানায়, ২০১৫ সালের পূর্ব পর্যন্ত সংস্থাটির কার্যক্রম শুধুমাত্র শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন প্রদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। তবে পরবর্তীতে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে তাদের ওপর নিয়োগ সুপারিশ প্রদানের দায়িত্বও অর্পণ করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় এনটিআরসিএ সম্পূর্ণ অটোমেশন পদ্ধতির মাধ্যমে এ পর্যন্ত ৭টি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে মোট ১ লাখ ৮৯ হাজার ২৮৪ জন প্রার্থীকে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রবেশ পর্যায়ের শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান বলেন, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ বর্তমানে দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য শিক্ষক নিবন্ধন, প্রত্যয়ন প্রদান এবং নিয়োগ সুপারিশের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে, যা শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি কেন্দ্রীয় ভূমিকা রাখছে।
অন্যদিকে, প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগ প্রক্রিয়ার পাশাপাশি প্রবেশ পর্যায়ের শিক্ষক নিয়োগের জন্যও নতুন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ লক্ষ্যে গত ২৯ মার্চ থেকে ৯ম এনটিআরসিএ শিক্ষক নিয়োগের ই-রিকুইজিশন বা শূন্যপদের তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করা হয়েছে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শূন্যপদের তথ্য সংগ্রহ সম্পন্ন হওয়ার পর সেই অনুযায়ী পরবর্তী নিয়োগ কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।
এনটিআরসিএ আরও জানায়, সংস্থাটি এ পর্যন্ত মোট ১৮টি পর্যায়ে শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে এবং একই সঙ্গে ৭টি নিয়োগ সুপারিশ প্রক্রিয়া সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছে, যা দেশের বেসরকারি শিক্ষা খাতে শিক্ষক নিয়োগ ব্যবস্থাকে একটি সুসংগঠিত ও প্রযুক্তিনির্ভর কাঠামোর মধ্যে নিয়ে এসেছে।
Leave a Reply