উৎসব ভাতা বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে নতুন করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী এবং শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সোমবার (৬ এপ্রিল) এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা উপলক্ষে ময়মনসিংহ শিক্ষাবোর্ড, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন কেন্দ্রসচিবদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘ প্রায় সতের বছর ধরে শিক্ষকদের উৎসব ভাতায় কোনো ধরনের বৃদ্ধি করা হয়নি, যা একটি বড় বৈষম্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে বর্তমান সরকার এ বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে চলতি বছরেই উৎসব ভাতা ১০ শতাংশ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আসন্ন ঈদুল আজহার সময়ের মধ্যেই এই বর্ধিত ভাতা কার্যকর করা সম্ভব হতে পারে। এ লক্ষ্যে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কাজ করে যাচ্ছে বলেও তিনি জানান।
এ সময় শিক্ষামন্ত্রী পরীক্ষার শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি স্পষ্টভাবে নির্দেশনা দেন, পরীক্ষার হলে কোনো পরীক্ষার্থীর কাছে যদি কোনো ধরনের কাগজ বা অননুমোদিত উপকরণ পাওয়া যায়, তাহলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে বহিষ্কার করা হবে। কারণ, পরীক্ষার আগে থেকেই কঠোরভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, পরীক্ষার হলে কোনো ধরনের কাগজ বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এমনকি পরীক্ষাকেন্দ্রের বাথরুমে যদি কোনো কাগজ পাওয়া যায়, তাহলেও এর দায়ভার সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রসচিবকে বহন করতে হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।
মন্ত্রী আরও জানান, বর্তমানে প্রচলিত ১৯৮০ সালের পরীক্ষা-সংক্রান্ত আইনটি সময়োপযোগী নয় এবং এতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নকলের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো শাস্তির বিধান নেই। ফলে আইনটি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংঘটিত অনিয়ম ও নকল প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়।
এর আগে, একই বিষয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী পরীক্ষায় নকল ও অনিয়মের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছিলেন। তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, কোনো পরীক্ষার্থীর বিরুদ্ধে নকল বা অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে শুধু ওই শিক্ষার্থীই নয়, বরং দায়িত্বে অবহেলার কারণে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও কেন্দ্রসচিবদের বিরুদ্ধেও কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Leave a Reply