শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে কোনো শিক্ষক যদি ইচ্ছাকৃতভাবে কম বা বেশি নম্বর প্রদান করেন, তাহলে তাকে আইনগত শাস্তির আওতায় আনা হবে। শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমির অডিটোরিয়ামে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা-২০২৬ উপলক্ষে কুমিল্লা অঞ্চলের কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি স্পষ্ট করে জানান, খাতা মূল্যায়নের সময় কোনো ধরনের গাফিলতি, পক্ষপাতিত্ব বা অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। কোনো শিক্ষক যদি অতিরিক্ত নম্বর দেন, কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো শিক্ষার্থীকে কম নম্বর দিয়ে ফেল করিয়ে দেন—এমন অভিযোগ বা সন্দেহ দেখা দিলে তা গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হবে। তিনি বলেন, কোনো পরীক্ষার্থী যদি অস্বাভাবিকভাবে বেশি জিপিএ অর্জন করে, সেটিও যাচাই-বাছাই করা হবে। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকের বিরুদ্ধে ১৯৮৮ সালের পাবলিক পরীক্ষা আইনের আওতায় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, সরকার ইতোমধ্যে পাবলিক পরীক্ষা সংক্রান্ত আইন সংশোধন করেছে। এর ফলে এখন শুধু বোর্ড পরীক্ষাই নয়, চাকরির পরীক্ষা সহ সব ধরনের পরীক্ষায় নকল, জালিয়াতি এবং অন্যান্য অনিয়মের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে। এই আইনের মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহিতা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সিসি ক্যামেরা স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষকরা নিয়মিত ও সময়মতো শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করছেন কিনা, তা পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে এবং এর একটি রেকর্ড সংরক্ষণ থাকবে।
কোচিং সেন্টার নিয়েও তিনি কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশে গড়ে ওঠা কোচিং সেন্টারগুলো সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে অনিয়ন্ত্রিতভাবে গড়ে ওঠা কিন্ডারগার্টেনগুলোও নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, “আমি নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেছি, এই দেশে আর কোচিং সেন্টার চলতে দেওয়া হবে না।”
উক্ত মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন এবং বক্তব্য প্রদান করেন কুমিল্লা-৬ (সদর-সদর দক্ষিণ) আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী, কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালাম, কুমিল্লা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. জসিম উদ্দিন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমএ মান্নান, কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভুঁইয়া, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু, কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মো. রেজা হাসান এবং কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।
মতবিনিময় সভাটি সঞ্চালনা করেন কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের ডেপুটি কন্ট্রোলার মো. কবির আহমেদ এবং এতে সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. শামছুল ইসলাম।
Leave a Reply