নতুন করে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন, পাঠদান চালু এবং একাডেমিক স্বীকৃতি প্রদানের চূড়ান্ত অনুমোদনের ক্ষমতা আবারও শিক্ষা মন্ত্রণালয়–এর হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে। এর আগে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওপর অর্পণ করা হয়েছিল। রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের জারি করা এক অফিস আদেশে সংশ্লিষ্ট সকলকে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়।
অফিস আদেশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অধীন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন, পাঠদান কার্যক্রম চালু করা এবং একাডেমিক স্বীকৃতি প্রদানের বিষয়গুলো এখন থেকে বিভাগের নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী সম্পন্ন হবে। এ ক্ষেত্রে ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক) স্থাপন, পাঠদান ও একাডেমিক স্বীকৃতি নীতিমালা-২০২২’ এবং এর সংশোধিত সংস্করণ ‘নীতিমালা-২০২৩’-এর অনুচ্ছেদ ১৭ (খ) অনুসরণ করা হবে। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, এসব কার্যক্রম শিক্ষামন্ত্রীর অনুমোদনক্রমেই বাস্তবায়িত হবে।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২২ সালের ৩০ অক্টোবর জারিকৃত এক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন, পাঠদান অনুমোদন এবং একাডেমিক স্বীকৃতির চূড়ান্ত ক্ষমতা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডগুলোর হাতে হস্তান্তর করা হয়েছিল। সেই সময় বলা হয়েছিল, সংশোধিত নীতিমালা অনুসারে বোর্ডগুলো নিজস্ব সভার মাধ্যমে এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে এবং অনুমোদন প্রদান করবে।
তবে এরও আগে, অর্থাৎ ২০১৬ সালের পর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন, পাঠদান অনুমতি এবং একাডেমিক স্বীকৃতির জন্য আবেদন গ্রহণ করত শিক্ষা মন্ত্রণালয় নিজেই। আবেদন পাওয়ার পর মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডগুলোকে পরিদর্শনের নির্দেশনা দিত। বোর্ডগুলো মাঠপর্যায়ে পরিদর্শন কার্যক্রম সম্পন্ন করে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠাতো। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মন্ত্রণালয় চূড়ান্ত অনুমোদনের বিষয়ে সম্মতি প্রদান করত এবং পরবর্তীতে বোর্ডগুলো সেই অনুযায়ী আনুষ্ঠানিক আদেশ জারি করত।
কিন্তু ২০২২ সালের অক্টোবর মাসের পর থেকে এই প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন এনে বোর্ডগুলোকেই আবেদন গ্রহণ থেকে শুরু করে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়ার পূর্ণ ক্ষমতা প্রদান করা হয়। এখন সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আবারও সেই ক্ষমতা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ফিরিয়ে আনা হলো, ফলে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ এই অনুমোদন প্রক্রিয়া পুনরায় কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে।
Leave a Reply