চলমান জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় দেশের সব মহানগরীর স্কুল-কলেজে অনলাইন ক্লাস চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ পরিকল্পনার আওতায় শুরুতে প্রতিদিন পর্যায়ক্রমে (অলটারনেটিভ) অনলাইন ও অফলাইন ক্লাস পরিচালনার চিন্তা করা হলেও আপাতত সপ্তাহে একদিন অনলাইন ক্লাস চালুর প্রস্তাব দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক বাস্তবতা ও সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে এই সীমিত পরিসরের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে, যা প্রাথমিকভাবে বাস্তবায়নের চিন্তা করা হচ্ছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, স্কুল-কলেজ পর্যায়ে সপ্তাহে অন্তত একদিন অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার প্রস্তাব ইতোমধ্যে উত্থাপন করা হয়েছে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার লক্ষ্যে আজ বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যা রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত চলতে পারে। ওই বৈঠকেই প্রস্তাবটি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে আপাতত সীমিত আকারে সপ্তাহে একদিন অনলাইন ক্লাস চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে পরিস্থিতির উন্নতি বা অবনতি বিবেচনায় ভবিষ্যতে অনলাইন ক্লাসের সংখ্যা বাড়ানো হতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।
এর আগে গত বুধবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সেই বৈঠকে তিনি প্রাথমিকভাবে প্রতিদিন পর্যায়ক্রমে অনলাইন ও অফলাইন ক্লাস চালুর একটি পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তবে শিক্ষকরা এ প্রস্তাব বাস্তবায়নে নানা জটিলতার কথা তুলে ধরে তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
আলোচনা সভার সূত্রে জানা যায়, মন্ত্রী ছয় দিনের সাপ্তাহিক ক্লাস রুটিনে জোড়-বিজোড় পদ্ধতিতে তিন দিন অনলাইন এবং তিন দিন সশরীর ক্লাস নেওয়ার প্রাথমিক ধারণা দেন। অর্থাৎ, যদি কোনো দিন অনলাইন ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে তার পরদিন সশরীরে ক্লাস নেওয়া হবে—এভাবে পর্যায়ক্রমে পাঠদান চালানোর একটি কাঠামো প্রস্তাব করা হয়।
তবে শিক্ষকদের পক্ষ থেকে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বেশ কিছু সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরা হয়। তারা জানান, বিশেষ করে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে অনলাইন ক্লাসে অংশগ্রহণ করা কঠিন, কারণ অনেক শিশু এখনো ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারে অভ্যস্ত নয়। পাশাপাশি দেশের বহু পরিবারে প্রয়োজনীয় ডিভাইস বা ইন্টারনেট সুবিধার অভাব রয়েছে, যা অনলাইন শিক্ষাকে সবার জন্য সমানভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব করবে না। এ প্রেক্ষাপটে শিক্ষকরা মন্ত্রীর কাছে অনলাইন ক্লাস পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় ডিভাইস সরবরাহের দাবি জানান।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। অন্যদিকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান গণমাধ্যমকে জানান, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানতে আরও একদিন অপেক্ষা করতে হবে এবং পরবর্তী দিনেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যাবে।
Leave a Reply