প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাত আনুমানিক পৌনে ৯টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনে এই বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে চলমান জ্বালানি সংকটকে কেন্দ্র করে সরকার নতুন কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে অনলাইন ক্লাস চালুর বিষয়ে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তও এই বৈঠক থেকেই আসতে পারে।
এছাড়া, বৈঠকের নির্ধারিত আলোচ্যসূচির বাইরেও বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের বর্তমান প্রেক্ষাপটে করণীয় বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের সার্বিক দিক বিবেচনা করে আপাতত সপ্তাহে একদিন অনলাইন ক্লাস চালুর একটি প্রস্তাব মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে পাঠানো হয়েছে। এই প্রস্তাবটি মূলত স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য হতে পারে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, ‘বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রাথমিকভাবে সপ্তাহে একদিন অনলাইন ক্লাস চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে পরিস্থিতির উন্নতি বা অবনতি অনুযায়ী ভবিষ্যতে এই অনলাইন ক্লাসের পরিধি আরও বাড়ানো হতে পারে।’
এর আগে, গত মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন সাংবাদিকদের জানান, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে সরকার মহানগরীগুলোর স্কুলগুলোতে অনলাইন ও অফলাইন—এই দুই পদ্ধতিতেই পাঠদান চালু রাখার বিষয়টি বিবেচনা করছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব মন্ত্রিসভার ওপরই ন্যস্ত রয়েছে।
সেই ধারাবাহিকতায় ধারণা করা হচ্ছে, আজ রাতের এই মন্ত্রিসভা বৈঠকেই মেট্রোপলিটন এলাকাগুলোর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন ও অফলাইন উভয় মাধ্যমে ক্লাস পরিচালনার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হতে পারে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে দোকানপাট ও শপিংমল খোলা রাখার সময়সূচি নিয়ে নতুন নির্দেশনাও বৈঠক থেকে আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
এদিকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের মজুত এখনো সন্তোষজনক পর্যায়ে রয়েছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থাও মোটামুটি স্বাভাবিক আছে। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় অতিরিক্ত তেল কেনার প্রবণতা দেখা দিয়েছে এবং কিছু অসাধু ব্যক্তি অবৈধভাবে তেল মজুত করায় বাজারে কৃত্রিম সংকটের একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
Leave a Reply