বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বৈশাখী ভাতার প্রস্তাব নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এখনও বিপুল সংখ্যক শিক্ষক-কর্মচারীর বিল জমা না পড়ায় প্রস্তাব পাঠানোর সময় পিছিয়ে আগামী রবিবার নির্ধারণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (ইএমআইএস) সেলের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত দেশের ২৮৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মোট ৪ হাজার ৮০১ জন শিক্ষক-কর্মচারীর বৈশাখী ভাতার বিল সাবমিট করা হয়নি। এই বিপুল সংখ্যক বিল জমা না পড়ায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রস্তাব চূড়ান্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বিল দাখিলের সময়সীমা বাড়িয়ে আগামী শনিবার পর্যন্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে খুব শিগগিরই আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে বলেও জানা গেছে।
এ বিষয়ে ইএমআইএস সেলের এক কর্মকর্তা জানান, অনেক শিক্ষক-কর্মচারী এখনও তাদের বৈশাখী ভাতার বিল সাবমিট করেননি। এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো সম্ভব হয়নি। তাই নতুন করে সময় বাড়িয়ে আগামী শনিবার পর্যন্ত বিল দাখিলের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এরপর সকল তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই শেষে আগামী রবিবার বৈশাখী ভাতার প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা গেছে, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন, উৎসব ভাতা এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধার প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানরা প্রস্তুত করে থাকেন। এসব প্রস্তাব অনলাইনের মাধ্যমে দাখিল করার পর তা যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করা হয়। পরবর্তীতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পর শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা সরাসরি তাদের ব্যাংক হিসাবে প্রেরণ করা হয়।
উল্লেখ্য, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নিয়মিত ও সময়মতো প্রদানের লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে ডিজিটাল পদ্ধতিতে বিল দাখিল ও অনুমোদনের ব্যবস্থা চালু করেছে। এই আধুনিক ব্যবস্থার ফলে পুরো প্রক্রিয়াটি এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি স্বচ্ছ, দ্রুত এবং জবাবদিহিমূলক হয়ে উঠেছে।
Leave a Reply