বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ এনটিআরসিএ এর অধীনে প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহপ্রধান পদে নিয়োগের লক্ষ্যে লিখিত পরীক্ষা আগামী ১৮ এপ্রিল রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই পরীক্ষাকে ঘিরে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বিশেষ করে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও তা পরিশোধনের কাজ গুরুত্বসহকারে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী প্রার্থীর সংখ্যা বিবেচনা করে কেন্দ্র নির্ধারণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার এনটিআরসিএ’র সম্মেলন কক্ষে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও মডারেশন বিষয়ক একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেওয়া একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়নের দায়িত্বে থাকবেন বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা, যারা কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে এই কাজ সম্পন্ন করবেন। পাশাপাশি প্রশ্নপত্রের মান ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে অভিজ্ঞ অধ্যাপকরা মডারেশনের দায়িত্ব পালন করবেন।
এই পুরো প্রক্রিয়ায় মোট ৭২ জন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যুক্ত থাকবেন। তারা টানা তিন দিন বিজি প্রেসে অবস্থান করে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও মডারেশনের কাজ সম্পন্ন করবেন এবং পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান করবেন। এরপর পরীক্ষার কার্যক্রম শেষ হলে তারা বিজি প্রেস ত্যাগ করবেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা গেছে, মোট ২২টি ভিন্ন পদের জন্য এই নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে এবং প্রতিটি পদের জন্য আলাদা প্রশ্নপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো প্রতিটি প্রার্থীর যোগ্যতা সঠিকভাবে যাচাই করা। পরীক্ষা মোট চারটি ধাপে অনুষ্ঠিত হবে—এর মধ্যে সকালে দুটি এবং বিকেলে দুটি শিফট থাকবে। সময়সূচি অনুযায়ী প্রথম ধাপ সকাল ৯টায়, দ্বিতীয় ধাপ সকাল ১১টায়, তৃতীয় ধাপ দুপুর ২টায় এবং চতুর্থ ও শেষ ধাপ বিকেল ৪টায় অনুষ্ঠিত হবে।
প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রার্থীদের এক ঘণ্টাব্যাপী এমসিকিউ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে, যেখানে মোট ৮০ নম্বরের প্রশ্ন থাকবে। প্রতিটি সঠিক উত্তরের জন্য ১ নম্বর প্রদান করা হবে এবং প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ নম্বর কাটা হবে। এমসিকিউ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরা পরবর্তীতে ২০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। এভাবে লিখিত ও মৌখিক মিলিয়ে মোট নম্বর হবে ১০০ এবং উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য ন্যূনতম ৪০ শতাংশ নম্বর অর্জন করতে হবে।
পরীক্ষার বিষয়বস্তুর মধ্যে থাকবে বাংলা, ইংরেজি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি), সাধারণ জ্ঞান, মানসিক দক্ষতা এবং প্রশাসনিক ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা। এছাড়াও সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর অনুযায়ী কারিগরি শিক্ষা, সাধারণ শিক্ষা ও মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাতে প্রার্থীদের সামগ্রিক দক্ষতা ও যোগ্যতা যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব হয়।
Leave a Reply