চলমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের উদ্দেশ্যে সরকার আটটি সম্ভাব্য পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এসব পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে সাপ্তাহিক ছুটি তিন দিনে উন্নীত করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আংশিক অনলাইন ক্লাস চালু করা, অফিস সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা এবং ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ সুবিধা চালুর মতো বিভিন্ন পদক্ষেপ। কোন পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে আগামী বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিতব্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকারি চাকরিজীবীদের সাপ্তাহিক ছুটি একদিন বাড়িয়ে তিন দিনে নেওয়ার প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে। তবে যদি ছুটি বাড়ানো সম্ভব না হয়, তাহলে বিকল্প হিসেবে সপ্তাহে দুই দিন বাসা থেকে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হতে পারে। একইসঙ্গে অফিসের সময়সূচিতে পরিবর্তন এনে কাজের সময় এগিয়ে আনা অথবা মোট কর্মঘণ্টা কমিয়ে আনার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।
সূত্রটি আরও জানায়, ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ ব্যবস্থা চালু করা হলে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সপ্তাহে অন্তত দুই দিন ঘরে বসে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। পাশাপাশি বিদ্যুৎ খরচ কমাতে দেশের স্কুলগুলোতে সপ্তাহে অন্তত তিন দিন অনলাইন ক্লাস চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের জন্য এখনো নির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়নি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য অন্তত আটটি ভিন্নধর্মী উদ্যোগ বর্তমানে আলোচনায় রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সাপ্তাহিক ছুটির দিন বৃদ্ধি, আংশিক বা পূর্ণ ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ চালু করা, অফিস সময় আগেভাগে শুরু করা এবং দৈনিক কাজের সময় কমিয়ে আনা। এছাড়া বিদ্যুৎ ব্যবহার কমানোর লক্ষ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সপ্তাহের অর্ধেক ক্লাস অনলাইনে নেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এদিকে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাব বিবেচনায় দেশের মহানগর এলাকার স্কুলগুলোতে অনলাইন ও অফলাইন সমন্বয়ে ক্লাস পরিচালনার বিষয়টি সক্রিয়ভাবে ভাবা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমসহ দেশের সব ধরনের স্কুলকে অনলাইন ও অফলাইন মিলিয়ে পরিচালনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তিনি আরও জানান, আসন্ন মন্ত্রিপরিষদ সভায় এ সংক্রান্ত প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে এবং সেখানেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে জ্বালানি সাশ্রয়ে বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই প্রেক্ষাপটে দেশের স্কুলগুলোকে সপ্তাহে পাঁচ দিনের পরিবর্তে ছয় দিন খোলা রাখার পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যাতে অনলাইন ও অফলাইন মিলিয়ে ক্লাস পরিচালনা করা যায়। বিশেষ করে মহানগর এলাকায় অনলাইন ক্লাস চালুর ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ড. মিলন আরও বলেন, রমজানের ছুটি এবং বিভিন্ন আন্দোলনের কারণে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা পূরণ করতে সপ্তাহে ছয় দিন ক্লাস চালুর বিষয়টি বিবেচনায় আনা হচ্ছে। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংকটের কারণে ‘অন অ্যান্ড অফ’ বা হাইব্রিড পদ্ধতিতে ক্লাস পরিচালনার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং একটি জরিপও পরিচালনা করা হয়েছে। ওই জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৮৫ শতাংশ অংশগ্রহণকারী অনলাইন শিক্ষার পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে পুরোপুরি অনলাইনে চলে গেলে সামাজিক যোগাযোগ কমে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে, তাই এ বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। সেখানে চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় শিক্ষা খাতে সম্ভাব্য করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
Leave a Reply