বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও নমনীয় ও প্রযুক্তিনির্ভর করার লক্ষ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন ও অফলাইন ক্লাস সমন্বয়ে একটি নতুন পদ্ধতি চালুর বিষয়ে ভাবছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থায় ‘জোর-বিজোড়’ তারিখের ভিত্তিতে ক্লাস পরিচালনার একটি পরিকল্পনা করা হয়েছে। অর্থাৎ, জোর তারিখগুলোতে অনলাইন ক্লাস এবং বিজোড় তারিখগুলোতে অফলাইন ক্লাস নেওয়ার সম্ভাবনা বিবেচনায় রয়েছে।
জানা গেছে, গত ৩১ মার্চ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এ বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এখনো এ সংক্রান্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। ফলে বিষয়টি এখনও পরিকল্পনার পর্যায়েই রয়েছে এবং চূড়ান্ত বাস্তবায়নের আগে আরও পর্যালোচনা করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় তাত্ত্বিক ক্লাসগুলো অনলাইন ও অফলাইনের মধ্যে ভাগ করে নেওয়া হলেও ব্যবহারিক বা প্র্যাকটিক্যাল ক্লাসগুলো কেবল সরাসরি (অফলাইন) নেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে প্রাথমিক ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। কারণ, এসব ক্লাসে সরাসরি উপস্থিতি ছাড়া কার্যকর শেখানো সম্ভব নয়।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই ধরনের হাইব্রিড পদ্ধতি চালু করা গেলে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে অংশগ্রহণ বাড়বে এবং একই সঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার প্রসারও ঘটবে। তবে বাস্তব পরিস্থিতি, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং শিক্ষার্থীদের সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনা করে সিদ্ধান্তটি চূড়ান্ত করা হবে।
অন্যদিকে, চলমান বৈশ্বিক সংকট, বিশেষ করে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকার মোট আটটি সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে সাপ্তাহিক ছুটি তিন দিন করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন ক্লাস চালু করা, এবং অন্যান্য প্রশাসনিক পরিবর্তন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব প্রস্তাবের মধ্যে কোনগুলো বাস্তবায়ন করা হবে, তা আগামী বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একটি গুরুত্বপূর্ণ সভায় চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একটি সূত্র জানিয়েছে, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সাপ্তাহিক ছুটি একদিন বাড়িয়ে তিন দিন করার পরিকল্পনা আলোচনায় রয়েছে। তবে যদি ছুটির দিন বাড়ানো সম্ভব না হয়, তাহলে বিকল্প হিসেবে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা ঘরে বসে কাজ করার সুযোগ চালুর বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। এই ব্যবস্থায় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সপ্তাহে অন্তত দুই দিন ঘরে বসে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।
এছাড়াও, অফিসের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা, কাজের সময় এগিয়ে আনা কিংবা মোট কর্মঘণ্টা কমিয়ে আনার মতো প্রস্তাবও আলোচনায় রয়েছে। বিদ্যুৎ খরচ কমানোর লক্ষ্যেই এসব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সপ্তাহের অন্তত তিন দিন অনলাইন ক্লাস পরিচালনার একটি পরিকল্পনাও গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এখনো এ ধরনের কোনো নির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়নি বলে জানা গেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য অন্তত আটটি পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে সাপ্তাহিক ছুটি বাড়ানো, সপ্তাহে দুই দিন ঘরে বসে কাজের সুযোগ দেওয়া, অফিসের সময় এগিয়ে আনা এবং মোট কাজের সময় কমিয়ে আনার মতো বিষয়গুলো রয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ ব্যবহারের চাপ কমাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অর্ধেক ক্লাস অনলাইনে নেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে।
Leave a Reply