পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটগুলোর চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা কোর্সকে পুনরায় তিন বছরে নামিয়ে আনার একটি প্রস্তাবনা নিয়ে ভাবনা-চিন্তা শুরু করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার্থীরা বর্তমানের তুলনায় এক বছর আগে তাদের পড়াশোনা শেষ করে দ্রুত কর্মজীবনে প্রবেশ করতে পারবে, যা দেশের কর্মসংস্থান ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
সোমবার (৩০ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দক্ষতার ওপর জোর দেন এবং অপ্রয়োজনীয় বা অকার্যকর প্রকল্প গ্রহণ থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা প্রদান করেন।
সভায় কারিগরি শিক্ষার সামগ্রিক উন্নয়ন নিয়েও বিস্তৃত আলোচনা হয়। বিশেষ করে বিদ্যমান কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আধুনিকায়ন করা, নতুন কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মডেল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট গড়ে তোলার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। বর্তমান যুগের প্রযুক্তিনির্ভর চাহিদা পূরণে এসব উদ্যোগকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়।
এ সময় সভায় জানানো হয়, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরিচালিত পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটগুলোতে বর্তমানে চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা কোর্স চালু রয়েছে। তবে অতীতে এই কোর্সের মেয়াদ ছিল তিন বছর। চার বছর মেয়াদি করার পরও পাঠ্যক্রমে তেমন উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন বা সংযোজন হয়নি—এ বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে।
এই প্রেক্ষাপটে কোর্সের মেয়াদ পুনরায় তিন বছরে নামিয়ে আনার সম্ভাব্যতা, এর সুবিধা ও অসুবিধা নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। আলোচনায় উল্লেখ করা হয়, মেয়াদ কমানো হলে শিক্ষার্থীরা দ্রুত কোর্স সম্পন্ন করে চাকরির বাজারে প্রবেশ করতে পারবে, যা তাদের ব্যক্তিগত জীবনের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতির জন্যও ইতিবাচক হতে পারে। তবে একই সঙ্গে শিক্ষার মান, দক্ষতা অর্জন এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির বিষয়গুলোও বিবেচনায় রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে আসে।
সভায় কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মুহাম্মদ রফিকুল ইসলামসহ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন এবং তারা এ বিষয়ে নিজেদের মতামত ও সুপারিশ তুলে ধরেন।
Leave a Reply