প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকদের দৈনিক উপস্থিতি নিশ্চিত করতে এবার নতুনভাবে হাজিরা খাতার ছবি হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানোর নির্দেশনা কার্যকর করা হয়েছে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষকদের উপস্থিতি নিয়মিত মনিটরিং ও তদারকি আরও জোরদার করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
রোববার (২৯ মার্চ) দীর্ঘ ছুটি শেষে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো পুনরায় চালু হওয়ার দিন থেকেই এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের কার্যক্রম শুরু হয়েছে কি না—তা মাঠ পর্যায়ে নজরদারি শুরু করেছেন প্রাথমিক শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। একাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক দৈনিক শিক্ষাডটকমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিদিন নির্ধারিত সময়ে বিদ্যালয়ের হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর সম্পন্ন হওয়ার পর সেটির একটি পরিষ্কার ছবি তুলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তার দেওয়া নির্দিষ্ট হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে পাঠাতে হবে। এ নিয়ম মানতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে শোকজসহ প্রশাসনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে বলেও জানা গেছে।
ঢাকার কেরানীগঞ্জের ৩৪ নম্বর বাঘাশুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শাহিনুর আল-আমীন দৈনিক শিক্ষাডটকমকে বলেন, নতুন এই ব্যবস্থা চালু করাকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন এবং এর মাধ্যমে উপস্থিতি ব্যবস্থাপনা আরও শৃঙ্খলিত হবে বলে মত দেন।
অন্যদিকে পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খোন্দকার জসিম আহমদ জানান, তাদের উপজেলায় এই পদ্ধতি ইতোমধ্যেই চালু রয়েছে এবং শিক্ষকরা নিয়মিতভাবে হাজিরা খাতার ছবি নির্ধারিত নম্বরে পাঠাচ্ছেন।
এছাড়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা দৈনিক শিক্ষাডটকমকে জানান, দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্যই এই নির্দেশনা প্রযোজ্য করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে একাধিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে বলেও তারা দাবি করেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, শিক্ষামন্ত্রী পর্যায় থেকে শুরু করে মহাপরিচালকসহ বিভিন্ন স্তরে এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং আজ স্কুল খোলার দিন থেকেই ছবিসহ উপস্থিতি নিশ্চিত করার নির্দেশনা কার্যকর করা হয়েছে।
তারা আরও বলেন, সরকারি কর্মচারীদের সময়মতো অফিসে উপস্থিত হওয়া বাধ্যতামূলক নীতির অংশ হিসেবেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কর্মপরিবেশ ও সরকারি অফিস সময় মেনে চলার উদাহরণ টেনে তারা উল্লেখ করেন, প্রায় সব সরকারি দপ্তরেই নির্ধারিত সময়ে অফিসে প্রবেশের নিয়ম অনুসরণ করা হয়। সময়মতো উপস্থিত না হলে কাজের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয় বলেও তারা মন্তব্য করেন।
Leave a Reply