অর্থ বিভাগের সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও এমপিওভুক্ত সিনিয়র (জ্যেষ্ঠ) শিক্ষকরা তাদের প্রাপ্য ১৫ শতাংশ প্রণোদনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এর পরিবর্তে তাদেরকে মাত্র ১০ শতাংশ বিশেষ সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে। এই বিষয়টি নিয়ে সারাদেশে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা একে সরাসরি সরকারি নির্দেশনা লঙ্ঘন ও বৈষম্যমূলক আচরণ হিসেবে আখ্যায়িত করে দ্রুত এর সংশোধন দাবি জানিয়েছেন।
জানা যায়, ২০২৫ সালের ৩ জুন অর্থ বিভাগ একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে, যেখানে জাতীয় বেতনস্কেলের আওতাভুক্ত কর্মচারীদের জন্য বিশেষ সুবিধা প্রদানের নির্দেশনা দেওয়া হয়। ওই প্রজ্ঞাপনে গ্রেড ১ থেকে ৯ পর্যন্ত কর্মচারীদের জন্য ১০ শতাংশ এবং গ্রেড ১০ থেকে ২০ পর্যন্ত কর্মচারীদের জন্য ১৫ শতাংশ হারে বিশেষ সুবিধা নির্ধারণ করা হয়।
এরপর একই বছরের ২৩ জুন আরেকটি স্মারক জারি করা হয়, যেখানে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্যও এই বিশেষ সুবিধা কার্যকর করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়। এতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় যে, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও জাতীয় বেতনস্কেলের এই সুবিধার আওতাভুক্ত হবেন এবং একই নীতিমালা অনুসরণ করে তাদের বিশেষ সুবিধা প্রদান করতে হবে।
পরবর্তীতে ৩০ জুলাই জারি করা পৃথক আরেকটি প্রজ্ঞাপনে ‘গ্রেড’ সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। সেখানে বলা হয়, গ্রেড বলতে টাইমস্কেল, সিলেকশন গ্রেড বা উচ্চতর গ্রেডকে বোঝানো হবে না; বরং সংশ্লিষ্ট পদের জন্য নির্ধারিত প্রারম্ভিক (Substantive) গ্রেডকেই গ্রেড হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এই ব্যাখ্যার ফলে এমপিওভুক্ত সিনিয়র শিক্ষকদের ১৫ শতাংশ বিশেষ প্রণোদনা পাওয়ার বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। তবুও বাস্তব চিত্রে দেখা যাচ্ছে, জ্যেষ্ঠ শিক্ষকরা সেই অনুযায়ী প্রণোদনা পাচ্ছেন না।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই মাস থেকে এমপিওভুক্ত সিনিয়র শিক্ষকরা তাদের প্রাপ্য ১৫ শতাংশের পরিবর্তে মাত্র ১০ শতাংশ বিশেষ সুবিধা পাচ্ছেন। এর ফলে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। পাশাপাশি তাদের পেশাগত মর্যাদা ও প্রাপ্য অধিকার নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
শিক্ষকদের দাবি, একই নীতিমালার আওতায় অন্যান্য পেশাজীবীরা তাদের প্রারম্ভিক গ্রেড অনুযায়ী ১৫ শতাংশ হারে বিশেষ সুবিধা পাচ্ছেন। অথচ এমপিওভুক্ত পদোন্নতিপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ক্ষেত্রে ভিন্ন ধরনের আচরণ করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তাদের মতে, এই ধরনের বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত শিক্ষকদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করছে এবং রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তের ওপর আস্থাহীনতা তৈরি করছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন চাকরি করার পর যারা পদোন্নতি লাভ করেছেন, তাদের ক্ষেত্রে এই বঞ্চনার প্রভাব আরও তীব্রভাবে অনুভূত হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে ঘোষপা ক্যাপ্টেন ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক দ্বীন মোহাম্মদ বলেন, ‘সরকারি প্রজ্ঞাপনে বিষয়টি অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকার পরও এমপিওভুক্ত পদোন্নতিপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ক্ষেত্রে তা বাস্তবায়ন না হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সর্বশেষ জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী গ্রেড বলতে প্রারম্ভিক গ্রেডকে বোঝানো হয়েছে। সে অনুযায়ী আমাদের ১৫ শতাংশ প্রণোদনা পাওয়ার কথা।’
তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করে আমাদের মাত্র ১০ শতাংশ দেওয়া হচ্ছে। এটি কেবল একটি প্রশাসনিক ত্রুটি নয়, বরং সরাসরি সরকারি প্রজ্ঞাপন লঙ্ঘন এবং স্পষ্ট বৈষম্যমূলক আচরণ।’
Leave a Reply