২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা-এর বিষয়সংখ্যা কমানো যায় কিনা—এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। বুধবার (২৫ মার্চ) শিক্ষা মন্ত্রণালয়-এ আয়োজিত এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার নিরাপত্তা সংক্রান্ত এক বৈঠকে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে উত্থাপন করা হয়। বৈঠকে উপস্থিত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মত দেন, প্রশ্নপত্রের মান বা গুণগত মান অক্ষুণ্ন রেখে বিষয়সংখ্যা কমানোর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা যেতে পারে। তাদের মতে, এতে শিক্ষার্থীদের ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ কমবে এবং শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও সময়োপযোগী করা সম্ভব হবে।
ওই বৈঠকে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়—২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা ডিসেম্বরে আয়োজন করা হতে পারে। যদিও এটি এখনো চূড়ান্ত নয়, তবে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এ বিষয়ে দ্রুত একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হবে, যা বিষয়সংখ্যা হ্রাস, পরীক্ষার সময়সূচি এবং কাঠামোগত পরিবর্তন নিয়ে সুপারিশ দেবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই উদ্যোগ নেওয়ার পেছনে মূল লক্ষ্য হচ্ছে শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ কমানো, পাঠ্যক্রমকে যুগোপযোগী করা এবং সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থাকে দক্ষ ও আধুনিক করা।
এছাড়া বৈঠকে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়েও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। অর্থাৎ, দেশের সব সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার নীতিতে এগোনোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর আগে এইচএসসি পরীক্ষা এবং এসএসসি পরীক্ষার ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন প্রশ্নপত্রের পরিবর্তে অভিন্ন প্রশ্ন চালুর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি সে সময় যুক্তি তুলে ধরে বলেন, দেশের সব শিক্ষার্থীর জন্য একটি সমান মানদণ্ড থাকা প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বড় বড় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলো যখন একই প্রশ্নপত্রে অনুষ্ঠিত হয়, তখন বাংলাদেশেও এই পদ্ধতি বাস্তবায়ন সম্ভব। তাই আগামী বছরগুলোতে কীভাবে এটি কার্যকরভাবে চালু করা যায়, সে বিষয়ে পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
তবে বাস্তব অভিজ্ঞতা বলছে, অতীতে সৃজনশীল প্রশ্নপত্র চালুর পর শুরুতে সৃজনশীল বিষয়গুলোর পরীক্ষা অভিন্ন প্রশ্নেই নেওয়া হতো। কিন্তু ২০১৪ সালের পর প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তার কারণে বোর্ডভিত্তিক আলাদা প্রশ্নপত্র ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়া হয়। বর্তমানে আবার অভিন্ন প্রশ্নপত্র চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়ায় কিছু শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, যদি কোনো একটি এলাকায় প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়, তাহলে অভিন্ন প্রশ্নপত্রের ক্ষেত্রে সেটি খুব দ্রুত সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকবে। অন্যদিকে, আলাদা প্রশ্নপত্র থাকলে কোনো নির্দিষ্ট বোর্ডে প্রশ্ন ফাঁস হলে তা সীমিত পরিসরে থাকে এবং দ্রুত নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হয়।
সব মিলিয়ে, ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষাকে ঘিরে শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে—যার মধ্যে বিষয়সংখ্যা কমানো, পরীক্ষার সময় পরিবর্তন এবং অভিন্ন প্রশ্নপত্র চালুর মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে।
Leave a Reply