বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বদলি কার্যক্রম চালু করতে সরকার যে সফটওয়্যারভিত্তিক পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে, তার আওতা আরও সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শুধু সহকারী শিক্ষক নয়; এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান প্রধান, সহকারী প্রধান শিক্ষক এবং বিভিন্ন পদে কর্মরত কর্মচারীদেরও বদলির আওতায় আনা হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভায় উপস্থিত এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, শিক্ষকদের বদলি ব্যবস্থাপনা ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালনার লক্ষ্যে তৈরি করা সফটওয়্যারটির ডেমো (প্রদর্শনী) সভায় উপস্থাপন করা হয়েছে। ডেমো উপস্থাপনের পর উপস্থিত কর্মকর্তারা সফটওয়্যারটির কার্যকারিতা ও কাঠামো নিয়ে আলোচনা করেন এবং সামগ্রিকভাবে এতে সন্তোষ প্রকাশ করেন। সফটওয়্যারটি চালু হলে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীদের বদলি প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভরভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তিনি আরও জানান, আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটির পর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করবে। এ সময় দেশের বিভিন্ন বেসরকারি এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজের শিক্ষক, প্রতিষ্ঠান প্রধান, সহকারী প্রধান এবং কর্মচারীদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এসব তথ্য সফটওয়্যারে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে বদলির জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ডাটাবেস প্রস্তুত করা হবে। তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাইয়ের কাজ শেষ হলে পর্যায়ক্রমে বদলির কার্যক্রম শুরু করা হবে।
সভায় আরও আলোচনা হয় যে, শুরুতে সফটওয়্যারটি মূলত শিক্ষক বদলির জন্য পরিকল্পনা করা হলেও পরবর্তীতে এর পরিধি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। এজন্য শিক্ষামন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে প্রতিষ্ঠান প্রধান, সহকারী প্রধান শিক্ষক এবং এমপিওভুক্ত কর্মচারীদেরও এই ডিজিটাল বদলি ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়। এতে করে একই প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত কর্মকর্তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী অন্য প্রতিষ্ঠানে বদলি করা সহজ হবে এবং জনবল ব্যবস্থাপনায় ভারসাম্য আনা সম্ভব হবে।
এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য বদলি সফটওয়্যারের মডিউলে নতুন কিছু অপশন ও কাঠামোগত পরিবর্তন যুক্ত করতে রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান টেলিটককে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সফটওয়্যারটি যেহেতু টেলিটকের কারিগরি সহায়তায় তৈরি করা হচ্ছে, তাই প্রতিষ্ঠান প্রধান ও কর্মচারীদের বদলির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে তাদের পক্ষ থেকেই প্রয়োজনীয় কারিগরি সংশোধন করা হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা আরও জানান, ঈদের পরপরই সফটওয়্যারটিতে এসব পরিবর্তন আনা হবে এবং সংশোধিত সংস্করণ প্রস্তুত করা হবে। এরপর মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ শেষ হলে পরীক্ষামূলকভাবে বদলি কার্যক্রম শুরু করা হতে পারে। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে, প্রযুক্তিনির্ভর একটি স্বচ্ছ ও কার্যকর ব্যবস্থার মাধ্যমে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বদলি প্রক্রিয়া চালু করা, যাতে দীর্ঘদিন ধরে থাকা বিভিন্ন জটিলতা ও অনিয়ম দূর করা সম্ভব হয়।
Leave a Reply