বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের উৎসব ভাতা ১০ শতাংশ বাড়ানোর সম্ভাবনার খবর কয়েকদিন ধরেই বিভিন্ন গণমাধ্যমে আলোচনায় রয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা না আসায় এ নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা ধরনের জল্পনা-কল্পনা। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সরকারের ভেতরে আলোচনা চললেও আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগেই বাড়তি ১০ শতাংশ উৎসব ভাতা পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।
মূলত কয়েকটি গণমাধ্যমে উৎসব ভাতা বাড়ানোর বিষয়টি সামনে আসার পর শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছিল। কিন্তু পরে এ বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী। তার এই প্রতিক্রিয়ার পরই স্পষ্ট হয় যে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
শিক্ষা প্রশাসনের একটি সূত্র জানায়, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের উৎসব ভাতা বাড়ানোর বিষয়টি নীতিগতভাবে আলোচনায় থাকলেও বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আর্থিক প্রক্রিয়া এখনো সম্পন্ন হয়নি। ফলে আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগে এই বাড়তি ভাতা পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
এ বিষয়ে জানতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা বলেন, এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীদের উৎসব ভাতা ১০ শতাংশ বাড়ানোর আলোচনা থাকলেও আগামী ঈদের আগে তা কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ হতে সময় লাগবে। তবে আগামী ঈদুল আজহা থেকে এ বাড়তি উৎসব ভাতা কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে কিছু গণমাধ্যমে বলা হচ্ছে, ঈদের পর আগামী মাসের বেতনের সঙ্গে সমন্বয় করে বাড়তি ভাতা দেওয়া হতে পারে। তবে শিক্ষা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এমন কোনো সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি এবং বাস্তবতাও তেমনটা ইঙ্গিত দিচ্ছে না।
এ পরিস্থিতিতে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, উৎসব ভাতা বৃদ্ধির ঘোষণা যদি আনুষ্ঠানিকভাবে দ্রুত না আসে, তাহলে আসন্ন ঈদুল ফিতরে আগের মতোই ৫০ শতাংশ উৎসব ভাতাই পেতে হবে তাদের। ফলে অনেকের মধ্যেই কিছুটা হতাশা কাজ করছে।
তবে শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা থেমে নেই। আর্থিক ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে উৎসব ভাতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে আসন্ন ঈদুল আজহা থেকেই এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা বাড়তি ১০ শতাংশ উৎসব ভাতার সুবিধা পেতে পারেন।
Leave a Reply