1. admin@kp-nat.com : admin : Ayub Ali
  2. ayub.bhs@gmail.com : Ayub ali : Ayub ali
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০১:০৯ অপরাহ্ন
Title :
৯ম শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি নিয়ে যা জানাল শিক্ষা মন্ত্রণালয় নিজ দল থেকে বহিস্কৃত হলেন জামায়াতে ইসলামের আলোচিত সমালোচিত সেই এমপি এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজের জুলাই মাসের বেতনের প্রস্তাব কোনদিন যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জানাল মাউশি বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে বিদ্যালয়ের বাহিরে যেতে পারবেন না শিক্ষক এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ কোনদিন জানাল আন্তঃশিক্ষা বোর্ড এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জুলাইয়ের বেতন নিয়ে যা জানাল মন্ত্রণালয় MPO মাদ্রাসা শিক্ষকদের বদলি নিয়ে তৈরি হয়েছে যে কারণে অনিশ্চয়তা এমপিও শিক্ষকদের বদলি আবেদনের অনুমতি চেয়ে চিঠি কবে, জানালেন মাউশি বেসরকারী এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের নিয়োগের ক্ষমতা আবারও ম্যানেজিং কমিটির হাতে এনটিআরসিএ-র নবম নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হবে যে সকল বিষয়ে

এমপিও শিক্ষক ও কর্মচারীরদের অবসর ও কল্যাণের টাকা পেতে এত ভোগান্তি কারণ

  • Update Time : রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬
  • ২১১ Time View
এমপিও শিক্ষক ও কর্মচারীরদের অবসর ও কল্যাণের টাকা পেতে এত ভোগান্তি কারণ

বাংলাদেশের বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যে সংকট চলছে, তার পেছনে রয়েছে অর্থের ঘাটতি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং দীর্ঘসূত্রতার এক জটিল সমীকরণ। কাগজে-কলমে এই ব্যবস্থাটি শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য নিরাপত্তার এক আশ্রয়স্থল হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু বাস্তবে অনেকের কাছে এটি হয়ে উঠেছে অপেক্ষা, হতাশা আর অনিশ্চয়তার প্রতীক।

প্রথমে অবসর বোর্ডের আর্থিক বাস্তবতা দেখা যাক। শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন থেকে কেটে নেওয়া ৬ শতাংশ অর্থ থেকে প্রতি মাসে জমা হয় প্রায় ৭০ কোটি টাকা। এর সঙ্গে বোর্ডের এফডিআর থেকে আসে আরও প্রায় তিন কোটি টাকা। অর্থাৎ সব মিলিয়ে প্রতি মাসে আয় দাঁড়ায় ৭৩ কোটি টাকা। কিন্তু বাস্তব চিত্র হলো, প্রতি মাসে যত শিক্ষক-কর্মচারী অবসরে যান তাদের পেনশন ও অবসর সুবিধা পরিশোধ করতে প্রয়োজন হয় প্রায় ১১৫ কোটি টাকা। ফলে মাসে প্রায় ৪২ কোটি টাকার ঘাটতি তৈরি হয়। এই ঘাটতি মাসের পর মাস জমতে জমতে এমন এক অবস্থায় পৌঁছেছে যে, অবসরে যাওয়ার পর একজন শিক্ষককে তাঁর প্রাপ্য অর্থ পেতে চার বছরেরও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। একজন শিক্ষক যিনি জীবনের তিন দশকেরও বেশি সময় শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যয় করেছেন, অবসরের পরে তাঁর জীবনের সবচেয়ে অনিশ্চিত সময়টি কাটে এই পাওনা অর্থের অপেক্ষায়।

একই ধরনের সংকট দেখা যায় কল্যাণ ট্রাস্টের ক্ষেত্রেও। শিক্ষক-কর্মচারীদের মূল বেতন থেকে কেটে নেওয়া ৪ শতাংশ অর্থ থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৫০ কোটি টাকা জমা হয়। ট্রাস্টের এফডিআর থেকে আসে আরও প্রায় দুই কোটি টাকা। ফলে মাসিক আয় দাঁড়ায় ৫২ কোটি টাকা। কিন্তু অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের আবেদন নিষ্পত্তি করতে প্রয়োজন হয় প্রায় ৬৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ এখানেও প্রতি মাসে প্রায় ১৩ কোটি টাকার ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। অর্থের এই ঘাটতি ক্রমশ আবেদনপত্রের পাহাড় তৈরি করছে, আর সেই পাহাড়ের নিচে চাপা পড়ে যাচ্ছে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার আশা।

সব শিক্ষকের পাওনা একবারে পরিশোধ করতে সরকারের কাছ থেকে এককালীন সাত হাজার ২০০ কোটি টাকা থোক বরাদ্দ প্রয়োজন। আর প্রতিবছরে বাজেটে মাত্র ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা। কিন্তু অবহেলিত এসব শিক্ষকের পেনশনের টাকা পরিশোধ করতে আগের সরকারের তেমন আগ্রহ ছিল না। এমনকি সব কিছু জেনেশুনে চুপ ছিল শিক্ষা ও অর্থ মন্ত্রণালয়।

সূত্র জানায়, অবসর বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে পৃথকভাবে শিক্ষক-কর্মচারীদের পেনশনের টাকা পরিশোধ করা হয়। ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে যেসব শিক্ষক আবেদন করেছিলেন, তাঁরা এখন অবসর বোর্ডের টাকা পেয়েছেন। ২০২২ সালের নভেম্বরে যাঁরা কল্যাণ ট্রাস্টে আবেদন করেছিলেন, তাঁরা এখন তাঁদের টাকা পাচ্ছেন। এখন আবার পরবর্তী তিন মাসের আবেদনকারী শিক্ষক-কর্মচারীর অবসর-কল্যাণের টাকা পরিশোধে কাজ চলছে।

তবে সমস্যা শুধু অর্থের ঘাটতিতেই সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আমলাতান্ত্রিক জটিলতার দীর্ঘ শৃঙ্খল। একটি আবেদন জমা দেওয়ার পর তা প্রথমে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরতে থাকে। কোথাও কাগজের ঘাটতি, কোথাও স্বাক্ষরের অভাব, আবার কোথাও কোনো তথ্যের সামান্য অসঙ্গতি—এসব কারণে আবেদন মাসের পর মাস আটকে থাকে। অনেক সময় দেখা যায়, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষককে একই কাগজ বারবার জমা দিতে বলা হচ্ছে। ফলে দূরবর্তী গ্রামের কোনো অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষককে বারবার রাজধানীতে বা সংশ্লিষ্ট অফিসে যেতে হচ্ছে, যা তাঁর জন্য আর্থিক ও শারীরিক—দুই দিক থেকেই কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়।

ডিজিটাল যুগেও এই প্রক্রিয়ার বড় অংশ এখনও কাগজনির্ভর এবং ধীরগতির। আবেদন অনলাইনে জমা দেওয়ার কিছু ব্যবস্থা থাকলেও যাচাই-বাছাইয়ের বেশিরভাগ ধাপ এখনও হাতে-কলমে সম্পন্ন হয়। এর ফলে একটি ফাইল এক টেবিল থেকে আরেক টেবিলে যেতে যেতে মাস পার হয়ে যায়। মাঝে মাঝে ফাইল হারিয়ে যাওয়ার অভিযোগও শোনা যায়, যা পুরো প্রক্রিয়াকে আরও দীর্ঘ করে তোলে।

এই পরিস্থিতির আরেকটি মানবিক দিকও রয়েছে। অনেক শিক্ষক অবসরের পর তাঁদের চিকিৎসা, সংসার বা সন্তানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার জন্য এই টাকার ওপর নির্ভর করে থাকেন। কিন্তু চার বছর বা তার বেশি সময় অপেক্ষা করতে গিয়ে অনেকেই অর্থনৈতিক সংকটে পড়েন। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে ধার-দেনা করেন, আবার কেউ জমি বিক্রি করে জীবনের শেষ সময়টুকু পার করার চেষ্টা করেন। যাঁরা একসময় সমাজের আলোকবর্তিকা ছিলেন, তাঁদের এই অনিশ্চয়তা সমাজের জন্যও একটি বিব্রতকর বাস্তবতা।

এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য কয়েকটি বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ জরুরি। প্রথমত, অবসর ও কল্যাণ তহবিলে সরকারি অনুদান বা বিশেষ বাজেট বরাদ্দ বাড়ানো প্রয়োজন, যাতে মাসিক ঘাটতি কমানো যায়। দ্বিতীয়ত, পুরো আবেদন প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল করা দরকার, যাতে একজন শিক্ষক অবসরে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁর তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিস্টেমে যুক্ত হয়ে যায় এবং আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করা যায়। তৃতীয়ত, ফান্ডের অর্থ ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ পরিকল্পনা গ্রহণ করা যেতে পারে, যাতে এফডিআর বা অন্যান্য বিনিয়োগ থেকে বেশি আয় আসে।

সবচেয়ে বড় কথা, একজন শিক্ষক শুধু একজন চাকরিজীবী নন; তিনি একটি জাতির ভবিষ্যৎ গড়ার কারিগর। তাই অবসরের পরে তাঁর প্রাপ্য অর্থ পেতে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হওয়া কোনো সভ্য সমাজের জন্যই স্বাভাবিক বিষয় হতে পারে না। শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধার এই সংকট সমাধান করা মানে শুধু একটি প্রশাসনিক সমস্যা সমাধান করা নয়—বরং তা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি সম্মান ও দায়বদ্ধতার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আমার খবর
© All rights reserved © 2025 Kisukhoner Pathshala
Customized By BlogTheme