শিক্ষার মানোন্নয়নে মাধ্যমিক পর্যায়ে কারিগরি শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন ববি হাজ্জাজ। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, সাধারণ ও কারিগরি শিক্ষার মধ্যে কার্যকর ক্রেডিট ব্রিজ তৈরি করা হবে, যাতে একজন শিক্ষার্থী চাইলে এক ধারা থেকে অন্য ধারায় সহজে অগ্রসর হতে পারে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড এবং জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-এর সমন্বয়ে ব্রিজ কোর্স চালু করা হবে।
বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরেই “সনদ বনাম সক্ষমতা” বিতর্ক রয়েছে। সাধারণ শিক্ষায় তাত্ত্বিক জ্ঞান অর্জিত হলেও শিল্পক্ষেত্রের চাহিদা অনুযায়ী ব্যবহারিক দক্ষতা অনেক সময় গড়ে ওঠে না। মাধ্যমিক স্তর থেকেই কারিগরি উপাদান যুক্ত হলে—
প্রতিমন্ত্রী জানান, কারিগরি ও সাধারণ শিক্ষার মধ্যে ক্রেডিট ট্রান্সফারযোগ্য কাঠামো তৈরি হবে। অর্থাৎ, একজন শিক্ষার্থী যদি নবম-দশম শ্রেণিতে কারিগরি বিষয়ে কিছু মডিউল সম্পন্ন করে, তা পরবর্তীতে কলেজ বা পলিটেকনিক পর্যায়ে গণ্য হবে।
এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া ইন্টার্নশিপ এবং ক্যারিয়ার সেন্টার বাধ্যতামূলক করা হবে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি বাস্তব কর্মপরিবেশে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবে—যা চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের (4IR) যুগে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিমন্ত্রী স্পষ্টভাবে বলেন, “কারিকুলাম যদি দক্ষতার কথা বলে আর পরীক্ষা যদি মুখস্থ মাপে, তাহলে কোচিং বাড়বে।” তাই জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড-কে নির্দেশনা দেওয়া হবে—
এসব পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য—শুধু সনদ নয়, শিখনফলভিত্তিক সক্ষমতা নিশ্চিত করা।
বাংলাদেশে সরকারি, বেসরকারি, আলিয়া মাদ্রাসা, কওমি ও কারিগরি—বিভিন্ন ধারার শিক্ষা রয়েছে। সরকার এই বৈচিত্র্যকে সম্মান জানালেও “অসম মান” দূর করতে চায়।
এতে শিক্ষাব্যবস্থায় সমতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে।
উচ্চশিক্ষা শুধু ক্লাসনির্ভর থাকবে না—গবেষণা ও উদ্ভাবনকেও অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
এগুলো জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ার দীর্ঘমেয়াদি রোডম্যাপের অংশ।
১. পর্যাপ্ত দক্ষ শিক্ষক প্রস্তুত করা
২. কারিগরি ল্যাব ও ওয়ার্কশপ অবকাঠামো উন্নয়ন
৩. শিল্পখাতের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা
৪. মূল্যায়ন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা বজায় রাখা
মাধ্যমিক পর্যায়ে কারিগরি শিক্ষা অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ কেবল একটি নীতিগত ঘোষণা নয়—এটি শিক্ষাব্যবস্থাকে দক্ষতা, উদ্ভাবন ও কর্মসংস্থানের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করার প্রয়াস। যদি পরিকল্পনাগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা শুধু পরীক্ষায় নয়, বাস্তব জীবন ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায়ও এগিয়ে থাকবে।
শিক্ষার লক্ষ্য তখন হবে একটাই—সক্ষম নাগরিক তৈরি, যারা জ্ঞান, দক্ষতা ও মূল্যবোধে সমৃদ্ধ।
Leave a Reply