বেসরকারি স্কুল ও কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত পৌনে চার লাখের বেশি শিক্ষক-কর্মচারীর জানুয়ারি মাসের বেতনের প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলেও এখনো তা অনুমোদন পায়নি। এ কারণে চলতি সপ্তাহে জানুয়ারি মাসের বেতন পরিশোধের সম্ভাবনা নেই বলে জানা গেছে।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) একটি সূত্র জানায়, আজ বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত শিক্ষকদের জানুয়ারি মাসের বেতনের অনুমোদন মেলেনি। এর মধ্যে আগামী বুধবার পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে সরকারি ছুটি থাকায় কার্যদিবস কমে যাচ্ছে। ফলে আগামীকাল মঙ্গলবার বেতন অনুমোদন হলেও তা নিয়ে জিও জারি এবং অ্যাকাউন্ট্যান্ট জেনারেল (এজি) অফিসে পাঠানোর প্রক্রিয়া আগামী বৃহস্পতিবারের আগে সম্ভব নয়। এ অবস্থায় চলতি সপ্তাহে জানুয়ারি মাসের বেতন পরিশোধ কার্যত অনিশ্চিত।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাউশির এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (ইএমআইএস) সেলের এক কর্মকর্তা বলেন, সরকারি ছুটি ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় চলতি সপ্তাহে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জানুয়ারি মাসের বেতন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে আগামী সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের মধ্যে তাদের বেতন-ভাতা পরিশোধের চেষ্টা করা হচ্ছে।
জানা গেছে, প্রতি মাসে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনের প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানরা অনলাইনের মাধ্যমে দাখিল করেন। অনলাইন বিল দাখিলের পর তা যাচাই-বাছাই করা হয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে বেতনের অর্থ ছাড়ের ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদনের পরই শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ব্যাংকের মাধ্যমে পাঠানো হয়।
উল্লেখ্য, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নিয়মিত ও সময়মতো প্রদান নিশ্চিত করতে সরকার ডিজিটাল বিল দাখিল ও অনুমোদন ব্যবস্থা চালু করেছে। এই পদ্ধতির ফলে বেতন প্রক্রিয়াকরণ আগের তুলনায় আরও স্বচ্ছ হয়েছে।
এর আগে গত মাসে দেশের ১৯ হাজার ৮২৫টি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে—এর মধ্যে স্কুল ১৭ হাজার ২০৩টি এবং কলেজ ২ হাজার ৬২২টি—মোট ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৬৮৯ জন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী কর্মরত ছিলেন। সে অনুযায়ী ডিসেম্বর মাসের প্রথম ধাপে স্কুলের ৩ লাখ ১২ হাজার ২২২ জন এবং কলেজের ৮৮ হাজার ৩৪ জন শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন-ভাতার জিও জারি করা হয়।
ডিসেম্বর মাসের (লট–১) বেতন ও ভাতাদির সরকারি অংশ হিসেবে বেসরকারি স্কুল ও কলেজের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য মোট এক হাজার ৩৫ কোটি ২৩ লাখ ৪২৭ টাকা চার পয়সা ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) পদ্ধতিতে পরিশোধ করা হয়েছিল। এই অর্থের মধ্যে মূল বেতন, বাড়িভাড়া ভাতা, চিকিৎসা ভাতা এবং বিশেষ সুবিধা অন্তর্ভুক্ত ছিল।
প্রতি মাসে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন প্রদানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানরা অনলাইনে বিল দাখিল করেন। সেই বিল যাচাই-বাছাই শেষে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় অর্থ ছাড়ের ব্যবস্থা নেওয়া হয়। শেষ ধাপে অর্থ মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পর বেতন-ভাতার টাকা ব্যাংকের মাধ্যমে শিক্ষক-কর্মচারীদের নিজ নিজ হিসাব নম্বরে জমা হয়।
সরকারের চালু করা ডিজিটাল বিল দাখিল ও অনুমোদন ব্যবস্থার ফলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রক্রিয়াকরণ এখন আগের তুলনায় আরও স্বচ্ছ, দ্রুত ও জবাবদিহিমূলক হয়েছে। এতে শিক্ষক-কর্মচারীদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।
Leave a Reply