জাতীয় স্কেলে আওতাভুক্ত সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা এতদিন গভীর টেনশনে ছিলেন কমবেশি সবাই যে পে কমিশনের রিপোর্ট কোনদিন প্রদান করবে আদৌ পে কমিশনের রিপোর্ট এই সরকারের মেয়াদপূর্তীর পূর্বেই প্রদান করবে কিনা। আদৌ আমরা এই সরকারের আমলে পে কমিশনের বাস্তবায়ন দেখব কিনা। নাকি পে কমিশনের রিপোর্ট বাস্তবায়ন আগামীর সরকারের জন্য রেখে যাবে। বাস্তবায়ন হলে বেতন কতটুকু বাড়বে। নানামুখী টেনশন কাজ করছে জাতীয় স্কেলে আওতাভুক্ত সকলের মাঝে। সেই টেনশনের একটি কিন্তু দুর হয়েছে তা হলো পে কমিশনের খসড়া রিপোর্ট পেশ। এখন এর বাস্তবায়নের পালা। এখন টেনশন বাস্তবায়ন কোনদিন হবে? এই সরকারর এটি বাস্তবায়ন করে যাবে তো? এই সরকার যদি বাস্তবায়ন না করে যায় তাহলে আগামী সরকার এসে এটি বাস্তবায়ন করতে নাও চাইতে পারে?
নতুন পে স্কেল প্রাপ্তির প্রথম ও প্রাথমিক ধাপ সম্পুর্ণ করছে সরকার অথ্যাৎ বেতন কমিশন তার প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দিয়েছে তবে এখনই স্বস্তির কোন খবর নাই। কারণ এই প্রকাশকৃত পে স্কেল বাস্তবায়ন না হলে এর কোন মুল্য নেই। তো পে স্কেল বাস্তবায়ন হলে যে বিষয়টি সর্বপ্রথম সামনে এসে যাবে তা হলো আমাদের পূ্র্বে প্রাপ্ত ইনক্রিমেন্ট গুলোর কি অবস্থা হবে সেগুলো কি বাদ হয়ে যাবে? না পূর্বে প্রাপ্ত ইনক্রিমেন্ট বাদ হওয়ার কোন সুযোগ নাই আর তা যদি বাদ দেওয়ার চেষ্টা করা হয় তাহলে তা কেউ মেনে নিবে না। তাহলে সেই প্রাপ্ত ইনক্রিমেন্টগুলোর কি অবস্থা হবে? সেই প্রশ্ন আমাদের সবার মনে? উত্তর হলো সেই প্রাপ্ত ইনক্রিমেন্ট গুলো দিয়ে বর্তমান আমরা আগামীতে যে নতুন বেতন স্কেল পেতে যাচ্ছি তার সাথে একভুত করা হবে আর সেটাকেই বলা হয় পে ফিক্সেশন।
পে ফিক্সেশন পৃথিবী ব্যাপী হয় মুলত দুই ভাবেঃ
১) পার্থক্য যোগ পদ্ধতি। ২) পে ফিক্সেশন ফ্যাক্টর পদ্ধতি
এই দুই পদ্ধতির মধ্যে ১ম পদ্ধতিটি সনাতন বা পুরাতন পদ্ধতি এবং ২য় পদ্ধতিটি আধুনিক ও যুগোপোযোগী পদ্ধতি এই পদ্ধতিটি সর্বাধিক পদ্ধতি। তাহলে এখন প্রশ্ন হলো আমাদের দেশে এ যাবৎ কালে কোন পদ্ধতিটি ব্যবহৃত হয়ে আসছে? উত্তর হলো আমাদের দেশে অতীতের সকল সময়ে ১ম পদ্ধতিটি প্রয়োগ হয়েছে। আজ অবধি কোন সময়েই ২য় যুগোপোযোগী পদ্ধতিটি ব্যবহৃত হয়নি এবং আশা করা যায় এবার ও হবে না। কারণ হিসাবে বলা যায় ১ম পদ্ধতিটির তুলনায় ২য় পদ্ধতিতে বেতন বৃদ্ধির পরিমাণ তুলনামুলক ভাবে অনেক বেশি হয় বিধায় আমাদের দেশের অর্থ মন্ত্রণালয় ২য় পদ্ধতিটি ব্যবহার না করে ১ম পদ্ধতিটি ব্যবহার করে থাকে।
এখন আমরা দেখি কোন পদ্ধতিতে কিভাবে হিসাব করা হয় এবং এর প্রভাব কিভাবে পড়ে।
প্রথমে আপনি নিশ্চিত হোন আপনার প্রাপ্ত বেতন গ্রেড কত? ধরে নিলাম আপনার প্রাপ্ত বেতন গ্রেড ৮ তাহলে আপনার বর্তমান বেতন স্কেলের প্রারম্ভিক বেতন শুরু হল ২৩,০০০টাকা দিয়ে এবং যদি এর সাথে আপনি ধরুন ৮টি ইনক্রিমেন্ট পেয়েছেন তাহলে আপনার বর্তমান মুল বেতন দাঁড়াবে ৩৪,০১০টাকা। এখন এই দুই বেতন বিয়োগ করুন। ৩৪০১০-২৩০০০=১১০১০টাকা। এখন খেয়াল করুন আপনি বর্তমানে নতুন যে বেতন স্কেল ঘোষিত হতে যাচ্ছে সেখানে ৮ নং গ্রেডের মুল বেতন কত টাকা হতে শুরু হতে যাচ্ছে সেখানে দেখা যাচ্ছে ৮নং গ্রেডে সুপারিশকৃত মুল বেতন শুরু ৪৭,২০০টাকা যদি এটাই গেজেট হয় তাহলে এটার সাথে ঐ পূর্বের বেতনের বিয়োগকৃত বিয়োগফল যে ১১০১০টাকা পাওয়া গিয়েছিল সেটা যোগ করুন। ৪৭২০০+১১০১০=৫৮২১০টাকা । এই আঠান্ন হাজার দুইশত দশ টাকাই আপনার ফিক্সেশন কৃত মুল বেতন হবে এই পদ্ধতিতে। হ্যাঁ এখন দেখা যাবে বর্তমানে ঘোষিত বেতনের তালিকায় আপনার গ্রেডের যে বাৎসরিক বৃদ্ধির তালিক রয়েছে সেখানে ৫৮২১০টাকা কোন ধাপ রয়েছে কিনা? সেই ধাপের অগ্রগামী বা সমান যে ধাপ থাকবে সেই ধাপটিই আপনার জন্য প্রযোজ্য হবে। নিচের ধাপ কখনই বিবেচনায় আসে না। কারণ বেতন কখনও কমে না বৃদ্ধি প্রাপ্ত হয়।
এই পদ্ধতিতেও আপনি প্রথমে আপনি নিশ্চিত হোন আপনার প্রাপ্ত বেতন গ্রেড কত? ধরে নিলাম আপনার প্রাপ্ত বেতন গ্রেড ৮ তাহলে আপনার বর্তমান বেতন স্কেলের প্রারম্ভিক বেতন শুরু হল ২৩,০০০টাকা দিয়ে এবং যদি এর সাথে আপনি ধরুন ৮টি ইনক্রিমেন্ট পেয়েছেন তাহলে আপনার বর্তমান মুল বেতন দাঁড়াবে ৩৪,০১০টাকা। এখন এই দুই বেতন স্কেলকে ভাগ করুন। ৩৪০১০/২৩০০০=১.৪৭। ভাগফল পাওয়া যাবে ১.৪৭ যেটি আপনার পে ফিক্সেশন ফ্যাক্টর। এখন এই ফ্যাক্টরটাই খুব গুরুত্বপূর্ণ। এখন খেয়াল করুন আপনি বর্তমানে নতুন যে বেতন স্কেল ঘোষিত হতে যাচ্ছে সেখানে ৮ নং গ্রেডের মুল বেতন কত টাকা হতে শুরু হতে যাচ্ছে সেখানে দেখা যাচ্ছে ৮নং গ্রেডে সুপারিশকৃত মুল বেতন শুরু ৪৭,২০০টাকা যদি এটাই গেজেট হয় তাহলে এটার সাথে ঐ পূর্বের বেতনের প্রাপ্ত যে ফ্যাক্টর ছিল ১.৪৭ তার সাথে গুণ করুন। ৪৭২০০*১.৪৭=৬৯৩৮৪টাকা । এই ঊনসত্তর হাজার তনিশত চুরাশি টাকাই আপনার ফিক্সেশন কৃত মুল বেতন হবে এই পদ্ধতিতে। হ্যাঁ এখন দেখা যাবে বর্তমানে ঘোষিত বেতনের তালিকায় আপনার গ্রেডের যে বাৎসরিক বৃদ্ধির তালিক রয়েছে সেখানে ৬৯৩৮৪টাকা কোন ধাপ রয়েছে কিনা? সেই ধাপের অগ্রগামী বা সমান যে ধাপ থাকবে সেই ধাপটিই আপনার জন্য প্রযোজ্য হবে। নিচের ধাপ কখনই বিবেচনায় আসে না। কারণ বেতন কখনও কমে না বৃদ্ধি প্রাপ্ত হয়।
পরিশেষে যে কথাটি বলতে চাই তা হলো পৃথিবীর সকল দেশেই সকল ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় আপডেট প্রযুক্তি আর আমাদের দেশে ব্যবহৃত হয় ঠকানো প্রযুক্তি। তো এখন দেখা যাক এবার কোন পদ্ধতি প্রয়োগ হয়।
Leave a Reply